গজালের আঘাতে বাবার চোখ নষ্ট, ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড
রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আসামি বাদলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর বাড্ডায় ২০২৫ সালে এপ্রিলে বাঁশের সঙ্গে যুক্ত গজালের আঘাতে বাবার এক চোখ নষ্ট করে দেওয়ার দায়ে ছেলেকে পৃথক দুই ধারায় ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শংকর কুমার বলেন, ৩২৬ ধারায় গুরুতর আঘাতের অভিযোগে আসামি এমদাদুল হক বাদলকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সাজা দিয়েছে আদালত।
উভয় সাজা একটির পর একটি চলবে। সে ক্ষেত্রে বাদলকে ১২ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাদলের স্ত্রী রত্নাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক।
রায় ঘোষণার জন্য এদিক বাদলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, বাদল উত্তর বাড্ডার একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এবং তার বাবা আব্দুল লতিফ ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুরে বাড়িভাড়ার টাকা নিয়ে বাবার সঙ্গে বাদল তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশ দিয়ে বাবার বাম চোখে আঘাত করেন। বাঁশের মাথায় কাপড় পেঁচানো লোহার গজালের আঘাত লেগে আব্দুল লতিফ লুটিয়ে পড়েন।
এরপরও বাদল বাবাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল লতিফকে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ঘটনায় আব্দুল লতিফের বাঁ চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
লতিফের আরেক ছেলে এনামুল হক বাপ্পি ঘটনার দিনই বাড্ডা থানায় বাদল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই মাহবুবুল আলম।
ওই বছরের ২৩ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
