Published : 02 May 2026, 02:46 PM
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি ও পিস্তল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ডাকাতি করে আসা একটি চক্রের ‘হোতা’সহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিন ও মো. রায়হান।
র্যাব বলছে, বৃহস্পতিবার ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ঢাকার ডেমরার মেন্দিপুর এলাকা থেকে আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে একই এলাকা থেকে রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, দুইটি ভুয়া নাম্বার প্লেট, ছয়টি র্যাবের জ্যাকেট, দুইটি হ্যান্ডকাপ, একটি ওয়াকিটকি সেট, পুলিশ লেখা স্টিকার, লেজার লাইট, পুলিশ বাটন, ওয়াইফাই পকেট রাউটার, সেনাবাহিনীর মাস্ক এবং দুইটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি হ্যান্ডকাপ চব্বিশের ৫ অগাস্ট থানা থেকে লুট হওয়া বলে জানিয়েছে র্যাব। তবে কোন থানা থেকে লুট হয়েছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেছেন, গ্রেপ্তাররা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে আসছিল। কখনও র্যাব, পুলিশ আবার কখনও যৌথ বাহিনীর পরিচয়ে অভিযানের নামে ডাকাতি করত তারা।

তিনি বলেন, “আলামিন এই চক্রের অন্যতম নেতা। তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরাণীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র্যাব পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা লুটের ঘটনায়ও সে আসামি।”
২০২৫ সালের মে মাসে ডাকাতি মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আগের মতো অপরাধে জাড়ায় আলামিন।
তার বিরুদ্ধে ঢাকার খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল জেলা সদর থানা এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, চুরি এবং অস্ত্র মামলাসহ মোট ৮টি মামলার তথ্য পেয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার রায়হান পেশায় চালক হলেও ডাকাত দলের ‘গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী’ হিসেবে কাজ করে আসছিল। তিনি ডাকাতির জন্য যানবাহন সরবরাহ, রুট নির্ধারণ এবং পালানোর পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতেন বলে ভাষ্য র্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাবের।
সন্ত্রাসীদের তালিকার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তালিকা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এখানে একটা তালিকা করা হলে সেই তালিকা ওই দিন বা ওই ক্ষণের জন্য সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে বিষয়টা তা না। “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা, তাই এখানে সার্বক্ষণিকভাবে তালিকাগুলোকে হালনাগাদ করতে থাকি। এই তালিকাগুলোর ভেতরে যে নামগুলো থাকে, এখানে নতুন করে নাম সংযোজিত হতে থাকে। পুরনো তালিকায় যারা আছে, তাদের তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ হতে থাকে।”

ভুয়া র্যাব ও আসল র্যাবের মধ্যে পার্থক্য সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, “যখন আমরা অভিযান পরিচালনা করি, অবশ্যই আমাদের প্রত্যেক সদস্যের কাছে র্যাবের কটি থাকে। এটি হচ্ছে প্রথম আইডেন্টিফায়ার।
“দ্বিতীয় র্যাবের প্রত্যেক সদস্যদের কাছে তার আইডি কার্ড থাকে, যেটা হলোগ্রামযুক্ত। এ দুটো দিয়েই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে যে, কে আসল র্যাব সদস্য বা কারা ভুয়া র্যাব পরিচয়ে এরকম অপরাধ সংগঠিত করছে। এছাড়া আমাদের র্যাবের সকল সদস্যকে বলা আছে অভিযানে গেলে তাদের পরিচয় কেউ জানতে চাইলে অবশ্যই সঠিক পরিচয় উপস্থাপন করতে হবে।”