Published : 14 Sep 2025, 05:41 PM
ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খানসহ চারজনের জামিন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
রোববার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম শুনানি নিয়ে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।
জামিন নামঞ্জুর হওয়া অপর আসামিরা হলেন- আমির হোসেন সুমন, আল আমিন ও শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব আবু আলম শহীদ খানসহ চারজনের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা পৃথকভাবে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করি। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন।”
গত ২৮ অগাস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১‘এর আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা সভায় ‘মব’ হামলার হন সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী কয়েকজন।
সেখান থেকে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাদের শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ বলছে, আবু আলম শহীদ খানও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ‘সরকাবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে গত ৭ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
“সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। ”
১৯৯৬ সালে সচিবালয়ে তৎকালীন বিএনপি সরকার বিরোধী ‘জনতার মঞ্চের’ অন্যতম সংগঠক ছিলেন সাবেক আমলা আবু আলম শহীদ খান। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি শেখ হাসিনা উপ প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে শহীদ খানকে ওএসডি হয়ে থাকতে হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে তিন মাসের মধ্যে পরপর চারটি পদোন্নতি দিয়ে তাকে জ্যেষ্ঠ সচিব করা হয়।
সে সময় তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী সচিব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে তিনি ২০১৫ সালে অবসরে যান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র আবু আলম শহীদ খান সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর কিছুদিন যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবেও কাজ করেছেন।
অবসরের পরের বছরগুলোতে তাকে টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা যেত রাজনৈতিক ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিশ্লেষকের ভূমিকায়। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন সাবেক এই আমলা।