Published : 09 Dec 2025, 08:22 PM
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যে বাতিল করা ১২টি প্রকল্পে পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে আগের চেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার সুযোগ পেয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদে এসব প্রকল্পের বিদ্যুতের দাম অনুমোদন করা হয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
‘দুর্নীতির’ মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা দিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ আইনের আওতায় অনুমোদন দেওয়ার কথা বলে ৩৪টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গত বছর বাতিল করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
বাতিল হওয়া এসব প্রকল্পগুলোর মধ্যে যে ১২টিকে আবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে থেকে এখন ২ থেকে ৩ সেন্ট কম দরে বিদ্যুৎ কেনার কথা বলেছেন উপদেষ্টা।
বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আজকে সৌরবিদ্যুতের ১২টা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে যেখান থেকে ৯৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। আগে ২০১০ সালের বিদ্যুৎ জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ আইনের অধীনে মূল্য ঠিক করা ছিল। যেহেতু আইনটা বাতিল হয়ে গেছে সেজন্য, প্রকল্পগুলোও বাতিল হয়েছিল।
কারণ আমাদের ধারণা ছিল যে এগুলোর দাম বেশি। ১২টা প্রকল্পের প্রতিটিতেই ২ থেকে ৩ সেন্ট দাম কম পেয়েছি।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল বিদ্যুৎ জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ আইন। এর মাধ্যমে অনেকটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়াই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির প্রকল্পগুলো অনুমোদনের সুযোগ ছিল। নতুন সরকার দায়িত্বে এসে খুব দ্রুত এই আইন বাতিল করে।
যে ১২টি প্রকল্প নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেগুলো ত আগের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়া কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বছরে ৪২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন।

দেখা যায়, নোয়াখালীর সুধারামে ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আগের ইউনিট মূল্য ছিল ৯ দশমিক ৯৭ সেন্ট। নতুন দরপত্রের পর সেখানে মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৯ সেন্ট। ডলারের হিসাবে দাম কমেছে ২ দশমিক ৪৮ সেন্ট, যা টাকার হিসাবে প্রায় ৩ টাকা।
উপদেষ্টা বলেন, “এলএনজি আমদানি করা খুব ব্যয়বহুল। তাই আমরা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চাই। কিন্তু এটার ক্ষেত্রে আমরা নানানভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এবং আমলাদের কাছ থেকে বাধা পাচ্ছি।
“আগে এসব প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হত। এখন দুর্নীতি বন্ধ হওয়ার ফলে আমলা ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা বাধা দিচ্ছেন। তারা উন্মুক্ত দরপত্রে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আসতে চাচ্ছে না। তারা অনেককে টেন্ডারে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছে। ফলে অনেকগুলোতে আমরা বিড পাইনি।”
সরকারি কর্মকর্তাদের অসযোগিতার ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “বিদ্যুৎ বিভাগে যারা কাজ করেন, তারা সবাই যে সহযোগিতা করেন এটা বলা যাবে না। সরকার যে ‘রুফটপ সোলার’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেখানে সব সংস্থার দরপত্রে অংশগ্রহণ হলেও পল্লী বিদ্যুতে হয়নি। কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেল, বিনিয়োগাকরীদের নিরুৎসাহিত করতে একটা ট্রান্সফর্মার বসানোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
“আমি আরইবির চেয়ারম্যানকে বলেছি, যেসব অফিসার সরকারের এই সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচিকে ব্যাহত করার জন্য চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। আর এর সঙ্গে যদি আরইবি জড়িত থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।”
“আমরা দুর্নীতিযুক্ত প্রক্রিয়া থেকে একটা দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি,” বলেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং এ খাতে অধিকতর সক্ষমতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুসারে বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের জন্য একটি খসড়া দরপত্র দলিল প্রস্তুত করে। এ খসড়ার আওতায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বেসরকারি খাতে ‘বিল্ড, ওউন অ্যান্ড অপারেট (বিওও)’ ভিত্তিতে দেশের ১৪টি স্থানে নির্মিতব্য সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে দরপত্র আহ্বান করে।
ক্রয় কমিটির অনুমোদন পাওয়া সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট ও ৪৫ মেগাওয়াটের দুটি ও হাটহাজারীতে ১৮ মেগাওয়াটের একটি। কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী ও রামুর জোয়ারিয়া নালায় ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি কেন্দ্র। এছাড়া পাবনা সদরে ১০০ মেগাওয়াট ও একই জেলার হেমায়েতপুরে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।