Published : 21 Apr 2026, 12:46 AM
রাজধানীর মহাখালীতে ‘গুলশান সার্ভিস স্টেশন’ থেকে জ্বালানি তেল নিতে আগের দুই দফায় যে ভোগান্তি সহ্য করেছেন, সোমবার সেই চিত্র পেলেন না পাঠাও চালক সাদিক হাসান।
স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বললেন, “এই পাম্প থেইকা আগেও দুইবার তেল নিছি। দিনটাই যেত লাইনে, এখন লাগছে চার ঘণ্টার মতো।”
সোমবার ‘গুলশান সার্ভিস স্টেশন’ থেকে মোটরসাইকেল চালকদের লাইন দেখা গেল আধা কিলোমিটারের মত। মূল সড়কে যানজটের কারণে বাইকের সারি উঠে গেছে ফুটপাতে।
চালকরা এদিন বলেন, এখন মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে তিন থেকে চার ঘণ্টার মত লাগছে। তেলের দাম বৃদ্ধির আগে লাগত আরও বেশি সময়।
সময় কমার কারণ জানতে চাইলে সাদিক হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গরমে কেডা লাইনে দাঁড়ায়। আমাগো পাঠাও ছাড়া পেট চলে না, তাই আছি।”
সাদিকের সামনেই ছিলেন আরেক মোটরসাইকেল চালক ইমামুল হক। তার কথায়, “যখন লাইনে খাড়াইলাম তখন সকাল ১১টা ১৫ মিনিট বাজে। দুপুর ৩টায় পাম্পের মুখে। সামনে দেখেন ছয়টা গাড়ি আছে।”
ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এক দিন আগেও তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে দেখা গেছে ‘হাহাকার’। রোদ-গরমে সকাল-থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোগান্তি সহ্য করে জ্বালানি তেল মিলেছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার রাতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসে। তেলের নতুন দর লিটারপ্রতি আগের চেয়ে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

এর এক দিন পর সোমবার রাজধানীর কিছু কিছু স্টেশনে তেল নিতে এসে অল্প সময় লাগার কথা বলেন মোটরসাইকেল চালকরা। তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পাওয়ার কথা বলেন কয়েকটি পাম্পে অপেক্ষায় থাকা অন্তত ২০ জন চালক।
রাজধানীর আসাদ গেটে ‘সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে’ সোমবার দুপুর ১টার দিকে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের সারি মোহাম্মদপুরের টাউন হল ছাড়িয়েছে। সেখানে ফুয়েল পাস থাকলে ১২০০ টাকার, না থাকলে ৫০০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে।
এ ফিলিং স্টেশনে দুপুর ২টায় তেল পাওয়ার কথা বলেন ফোরকান নামে এক চালক। তার কথায়, “আজ (সোমবার) দ্রুত তেল পেলাম। প্রায় ৪ ঘণ্টার মধ্যে তেল পেয়েছি।”
প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “লাইনে দাঁড়ালে শরীর ভিজে যাচ্ছে। যাদের খুব প্রয়োজন না, তারা দাঁড়াচ্ছে না।”
সোনার বাংলা পেট্রোল পাম্পের মুখেই কথা হয় বাইকচালক পারভেজ আলমের সঙ্গে, এসেছেন হাজারীবাগে থেকে।
দুপুর দেড়টার দিকে তেল নিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, “সকাল ৯টায় যখন তেলের জন্য বাসা থেকে রওনা দিই, তখন ভেবেছিলাম লাইন অনেক লম্বা হবে।
“আগের মতো লম্বা লাইন নেই। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দাঁড়াইছি। এখন (দুপুর ১টা ২০ মিনিট) পেয়ে গেলাম।”

সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের এক কর্তৃপক্ষের একজন মো. সোহরাব বললেন, “নতুন করে যে ট্রাকটি এসেছে, সেখানে বাড়তি তেল নেই। ডিপো থেকে কখন সরবরাহ করা হবে, সেটা জানা যায়নি।
“আমরা এখনো বাড়তি সরবরাহ পাইনি। খোঁজ নেওয়া হয়েছে, কখন থেকে বাড়তি সরবরাহ শুরু হবে, সেটাও পরিষ্কার নয়।”
সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের উল্টো দিকে তালুকদার পাম্পের গাড়ির সারি কিউ লেক রোডের মাঝামাঝি জিয়া উদ্যান পর্যন্ত দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এ ফিলিং স্টেশনে ছোট প্ল্যাকার্ড ঝুলতে দেখা যায়। তাতে লেখা “তেল আসবে সন্ধ্যা ৬টার পরে।”
যদিও দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, তেল দেওয়া শুরু হয়েছে।
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার নূর ইসলাম বলেন, “মানুষের প্রশ্নের কারণে কাজ করতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে প্ল্যাকার্ড টাঙিয়ে দিয়েছিলাম।”
তার কথায়, “তেল তাড়াতাড়ি আসছে, দেওয়াও শুরু হয়েছে।”