Published : 28 Apr 2026, 09:39 PM
আইনি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়ার কারণে পাচার হওয়া অবৈধ সম্পত্তি ফেরাতে সময় লাগে তুলে ধরে ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক বলেছেন, এটি তার দেশের সরকারের ‘উচ্চ অগ্রাধিকারে’ রয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।
সারাহ কুক বলেন, “সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নিয়ে আপনি আরও বেশি তথ্য চেয়েছেন। যেমনটা বলেছি, এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আমরা খুবই অঙ্গীকারাবদ্ধ। গত বছরের (২০২৫ সাল) জুন থেকে আমরা ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তি জব্দ করেছি।
“অবশ্য সম্পত্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে সময় লাগে। এটা একটা আইনি প্রক্রিয়া। আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য খুবই জোরালো তথ্য প্রমাণ লাগে। সুতরাং এটা এমন বিষয় যেটা একদিনে হয়ে যায় না।”
সম্পত্তি ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকার ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। আমাদের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা প্রতিনিয়িতই হচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ করছি, তবে আপনি জানেন, আইনি প্রক্রিয়ায় সময় লাগে।”
এর আগে আরেক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করার কথাও তুলে ধরেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার।
তিনি বলেন, “সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের বিষয়টি আপনি বলেছেন, যা নিয়ে গত দেড়-দুই বছর সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করেছি। এক্ষেত্রে আরও কাজ করার বিষয়ে খুবই অঙ্গীকারাবদ্ধ। অবশ্য, সুনির্দিষ্ট ঘটনার কথা বলতে পারি না।
“এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং এটা সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া লাগে। তবে এটা আমাদের উচ্চাধিকারে রয়েছে। আমি যেমনটা বলেছি, আমরা যুক্তরাজ্যে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তি জব্দ করেছি। সুতরাং আমি মনে করি, সরকারের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে এটি একটি জোরালো প্রমাণ।”
আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ অর্থায়ন নিয়ে জুনে যুক্তরাজ্যে একটি সম্মেলন হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে সব অংশীদার একত্রিত হবেন, যাতে অবৈধ অর্থায়নের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা যায়। সময় মিললে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের যুক্তরাজ্যে থেকে ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে ব্রিটিশ হাই কমিশনার বলেন, “আমার পক্ষে সম্ভাব্য ফেরানো নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
“আপনি জানেন, এটা এমন একটা ক্ষেত্রে, যেখানে আমরা সুনির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে পারি না। তবে বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে হলে ভালো সম্পর্কের খাতিরে এটা নিয়ে কাজ করতে পারি, যেখানে আলোচনা করে কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়।”
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ করার যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি দিয়েছিল, সেটাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হাই কমিশনার।
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিয়ে জাতীয় সমঝোতার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “অবশ্য, চব্বিশের জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ মানুষের স্মৃতিতে এখনও খুবই তাজা এবং পরিস্থিতি এখনও মনে কাঁচা। ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন করার বিষয়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি ছিল, এটাকে সাধুবাদ জানাই।
“কেননা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং পূর্ববর্তী শাসনামলে সংঘটিত নির্যাতনের বিষয়ে সত্যানুসন্ধানের ক্ষেত্রে এটি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সুতরাং জাতীয় নিরাময়ের বিষয়ে আপনি যেটা বলেছেন, সেক্ষেত্রে এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।”
এয়ারবাস ও এভিয়েশন খাতে সহযোগিতা
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তার সঙ্গে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয় যুক্ত থাকার কথা বলেছেন সারাহ কুক।
এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া থেমে থাকা বিষয়ক এক প্রশ্নে গত মাসে দুদেশের মধ্যে এভিয়েশন খাতের সহযোগিতার নিয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।
ব্রিটিশ হাই কমিশনার বলেন, “এটা সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তি এবং এভিয়েশন খাতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ অংশীদারত্বের উন্নয়ন বা জোরদার করার জন্য এটা করা হয়েছে। আমরা জানি বাংলাদেশ এভিয়েশনের আঞ্চলিক হাব হতে চায় এবং এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সহায়তা করতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
“সুতরাং, অবশ্যই আমরা এই চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কাজ করছি। এটা সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তি। চলমান বাণিজ্যিক দরকষাকষির বিষয়ে আমি অবশ্য মন্তব্য করছি না। তবে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এবং এই প্রেক্ষাপট থেকে চুক্তিটি সই হয়েছে।”
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ে কাজ পেতে ব্রিটিশ কোম্পানি মেনজিসের আগ্রহ এবং এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে সর্বশেষ অবস্থা হাই কমিশনারের কাছে জানতে চান এক সাংবাদিক।
উত্তরে সারাহ কুক বলেন, “এক্ষেত্রে আগে যা বলেছি, তার চেয়ে বেশি কিছু বলা কঠিন। আমাদের সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তি আছে। যেমনটি আপনি বলেছেন, গত মাসে আমাদের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টার্টনের উপস্থিতিতে ওই অংশীদারত্ব চুক্তি করেছি।
“যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ কীভাবে একযোগে কাজ করতে পারি এবং আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেটা ওই চুক্তিতে ঠিক করা হয়েছে। বাণিজ্যিক আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আমার জন্য সমীচীন হবে না।”
এভিয়েশন খাতের সহযোগিতার সঙ্গে এয়ারবাসের সংযোগ থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি যেটা বলতে পারি, সরকারের সঙ্গে সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এয়ারবাসের সংযোগ রয়েছে।
“আবারও বলি, বাণিজ্যিক দরকষাকষি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারি না। তবে আমি যেটা বলতে পারি এয়ারবাস… আপনি জানেন, মিশ্র বহরের কৌশল নিয়ে বহুমুখীকরণ করলে বাংলাদেশের উপকার হবে এবং বাংলাদেশ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে।”