১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অবকাঠামো সামগ্রীতে স্বল্প কার্বন বাধ্যতামূলক করার চিন্তায় সরকার

এজন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর তাদের রেট শিডিউলে পরিবর্তন আনারও প্রস্তাব করবে, বলেন অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Mar 2026, 09:30 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:16 PM

সরকারি অফিস ও আবাসন পরিবেশবান্ধব করতে স্বল্প কার্বনের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে একটি প্রস্তাব তৈরির কথা ভাবছে সরকার।

এজন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর তাদের রেট শিডিউলে পরিবর্তন আনারও প্রস্তাব করবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম।

তার ভাষ্য, “হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহায়তায় একটি 'ন্যাশনাল গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন সিস্টেম' তৈরি করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর তাদের রেট শিডিউলে স্বল্প-কার্বন সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে।”

রোববার ঢাকার একটি হোটেলে 'সার্কুলারিটি ইন দ্য বিল্ট এনভায়রনমেন্ট' শীর্ষক কর্মশালায় এ বিষয়ে দেশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। 

কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নির্মাণ খাতে টেকসই পদ্ধতির প্রচার ও বাস্তবায়ন করা।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্মশালার আয়োজন করে; সহযোগিতা করেছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি), জাতিসংঘ প্রকল্প সেবাগুলোর কার্যালয় (ইউএনওপিএস) ও জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচি (ইউএন-হ্যাবিট্যাট)।

জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৃহৎ প্রকল্পের অধীনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ক কারিগরি কমিটির চেয়ারম্যান সারোয়ার আলম বলেন, “নির্মাণ খাত দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, যা আবাসন ও সরকারি অবকাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এটি অন্যতম সম্পদ-নিবিড় একটি খাত এবং পরিবেশের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের সামনে সুযোগ রয়েছে একটি টেকসই ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার। সার্কুলারিটি বা আবর্তনশীল পদ্ধতি আমাদের উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে, বর্জ্য কমাতে ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে সাহায্য করবে।”

ইউএনওপিএস কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ ও ভুটান) সুধীর মুরলিধরন ঐতিহ্যগতভাবে নির্মাণ সামগ্রী পুনঃব্যবহার করে আসছে তুলে ধরে বলেন, “আমরা এটিকে সংকট নয়, সুযোগ হিসেবে দেখছি। তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা, পুনঃব্যবহৃত নির্মাণ উপকরণ, মানদণ্ড প্রণয়ন ও প্রদর্শন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে পারে। এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।”

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন জার্মান দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রধান উলরিখ ক্লেপমেন,  ইউএনওপিএস কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ ও ভুটান) সুধীর মুরলিধরন, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার।