Published : 29 Mar 2026, 06:39 PM
সরকারি অফিস ও আবাসন পরিবেশবান্ধব করতে স্বল্প কার্বনের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে একটি প্রস্তাব তৈরির কথা ভাবছে সরকার।
এজন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর তাদের রেট শিডিউলে পরিবর্তন আনারও প্রস্তাব করবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম।
তার ভাষ্য, “হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহায়তায় একটি 'ন্যাশনাল গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন সিস্টেম' তৈরি করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর তাদের রেট শিডিউলে স্বল্প-কার্বন সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে।”
রোববার ঢাকার একটি হোটেলে 'সার্কুলারিটি ইন দ্য বিল্ট এনভায়রনমেন্ট' শীর্ষক কর্মশালায় এ বিষয়ে দেশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নির্মাণ খাতে টেকসই পদ্ধতির প্রচার ও বাস্তবায়ন করা।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্মশালার আয়োজন করে; সহযোগিতা করেছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি), জাতিসংঘ প্রকল্প সেবাগুলোর কার্যালয় (ইউএনওপিএস) ও জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচি (ইউএন-হ্যাবিট্যাট)।
জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৃহৎ প্রকল্পের অধীনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ক কারিগরি কমিটির চেয়ারম্যান সারোয়ার আলম বলেন, “নির্মাণ খাত দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, যা আবাসন ও সরকারি অবকাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এটি অন্যতম সম্পদ-নিবিড় একটি খাত এবং পরিবেশের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের সামনে সুযোগ রয়েছে একটি টেকসই ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার। সার্কুলারিটি বা আবর্তনশীল পদ্ধতি আমাদের উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে, বর্জ্য কমাতে ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে সাহায্য করবে।”
ইউএনওপিএস কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ ও ভুটান) সুধীর মুরলিধরন ঐতিহ্যগতভাবে নির্মাণ সামগ্রী পুনঃব্যবহার করে আসছে তুলে ধরে বলেন, “আমরা এটিকে সংকট নয়, সুযোগ হিসেবে দেখছি। তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা, পুনঃব্যবহৃত নির্মাণ উপকরণ, মানদণ্ড প্রণয়ন ও প্রদর্শন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে পারে। এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।”
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন জার্মান দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রধান উলরিখ ক্লেপমেন, ইউএনওপিএস কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ ও ভুটান) সুধীর মুরলিধরন, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার।