Published : 30 Jun 2025, 09:08 PM
ঢাকায় আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়া একই পরিবারের তিনজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের ময়নাতদন্ত করা হয়।
পরে হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক জাকিয়া তাসনিম বলেন, পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষার ফল হাতে এলে জানা যাবে, তাদের মৃত্যু খাবারের বিষক্রিয়া থেকে হয়েছে কিনা।
“নমুনাগুলো মহাখালী রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, তারা খাদ্যে বিষক্রিয়ায়, নাকি অন্যকোনো কারণে মারা গেছেন।”
রোববার সকালে মগবাজারের আবাসিক হোটেল থেকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হলে সৌদি প্রবাসী মনির হেসেন (৪৮), তার স্ত্রী নাসরিন আকতার স্বপ্না (৩৮) ও তাদের সন্তান আরাফাতকে (১৮) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
সুরতহাল প্রতিবেদনে তাদের মৃত্যু খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সঙ্গে বলা হয়েছে, মরদেহগুলোতে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসক দেখাতে শনিবার ঢাকায় আসে লক্ষ্মীপুরের পরিবারটি। সেদিন চিকিৎসকের সূচি না পেয়ে তারা ওঠেন মগবাজারের ‘হোটেল সুইট স্লিপে’।
রাতে ‘ভর্তা ভাত’ নামের একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার নিয়ে তারা হোটেলে বসে খান। এরপরেই তারা অসুস্থ হন এবং বমিও হয়। তারা বমির ওষুধও খান। এসব থেকে পুলিশের ধারণা, তারা খাবারের বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন।
চিকিৎসক জাকিয়া তাসনিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মুত্যুর যেসব কারণ থাকতে পারে, সে বিষয় মাথায় রেখে মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। পুলিশের সন্দেহ ধেকে আমরা এই তিনজনের মরদেহ থেকে রক্ত, ভিসেরাসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছি।”
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলায় নেওয়া হয়।
রমনা থানার এসআই জালাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছেন। মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন
ঢাকায় 'খাবারের বিষক্রিয়ায়' স্ত্রী-সন্তানসহ প্রবাসীর মৃত্যু