Published : 20 Nov 2024, 09:08 PM
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচনের যে আলোচনা উঠেছে, তার পক্ষে মত দিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মো. আব্দুর রউফ।
পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের মতামত নেওয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছেন ১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সিইসির দায়িত্ব পালন করা এই বিচারপতি।
বুধবার নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের প্রাপ্ত ভোটারের ভিত্তিতে আসন সংখ্যা নির্ধারিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “কাজেই আনুপাতিক হারে নির্বাচন করেন। ৩০০ সংসদীয় আসন থাকবে না। সারাদেশ হবে একটা আসন, মানুষ ভোট দেবে দলকে। যখন দলকে ভোট দেবে, তখন পয়সা খরচের বিষয় থাকবে না।”
সংসদ, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে এক ভোটের মাধ্যমে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব রাখার পক্ষে মত দেন তিনি।
সরকার বদলের পর জামায়াতসহ কয়েকটি দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার দাবি তুলেছে।
গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে দুই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি হচ্ছে, নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীদের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, তিনি নির্বাচিত হবেন। এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশেই এর চর্চা আছে।
অন্য পদ্ধতি হল সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা বা ‘প্রপোরশনাল রিপ্রেজেনটেশন’ পদ্ধতি। সেখানে আসনভিত্তিক কোনো প্রার্থী থাকে না। ভোটাররা ভোট দেবেন দলীয় প্রতীকে। একটি দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সে অনুপাতে সংসদে তাদের আসন সংখ্যা নির্ধারণ হবে।
বিচারপতি রউফ বলেন, “দেশে কয়টা রাজনৈতিক দল রয়েছে, যারা আইন অনুসরণ করে দল হয়েছে? প্রাইমারি মেম্বারের ভোটে কতজন সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছে? যে দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র নেই, তারা গণতন্ত্র কায়েম করতে পারে? তাদেরকে গণতন্ত্রায়নের মধ্যে আনতে হবে এবং আনার প্রক্রিয়াটা নিয়ে কথা বলব আমরা।।”
এ সাবেক সিইসির ভাষ্য, “নির্বাচনকে সরলীকরণ করতে হবে। মনোনয়ন বাণিজ্য যদি বন্ধ করা না যায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। কেননা, মনোনয়নপত্র বাণিজ্যটাই নির্বাচনটাকে ট্রেডিংয়ে এনেছে। ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনব, ১০ কোটি টাকা ছড়াব। পাঁচ বছর থাকলে দুইশ, আড়াইশ কোটি টাকা লাভ করব, সোজা হিসাব। এমপি চরিত্র নষ্ট হচ্ছে এজন্য।”
বিচারপতি রউফ কমিশনের অধীনে পঞ্চম সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। সেই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ এবং আওয়ামী লীগ ৮৮ আসন পায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়ে রউফ কমিশন নির্বাচনি আইনে ব্যাপক সংস্কার আনে, জারি করা হয় নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ। বহু কাঙ্ক্ষিত সেই নির্বাচন করে প্রশংসিত হলেও ১৯৯৪ সালে বিএনপির শাসনামলে মাগুরা উপনির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত হন সিইসি রউফ।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই সিইসির পদ ছেড়ে বিচারপতি মো. আব্দুর রউফ ফিরে যান আবার আদালতে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “তার (আবদুর রউফ) অনেক অভিজ্ঞতা, অনেক প্রজ্ঞা, তিনি অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। তিনি আমাদের উৎসাহিত করেছেন।
“আমরা সবার মতামত নিচ্ছি। আমরা আরেকজন সিইসির (সাবেক সিইসি মোহাম্মদ আবু হেনা) মতামত নিয়েছি, যিনি বলেছেন আনুপাতিক নির্বাচনের দরকার নেই। এখনো আমরা শুনছি। অনেক রকম গুরুত্বপূর্ণ, অভিনব, সৃজনশীল প্রস্তাব রয়েছে। সব পর্যালোচনা করে আমরা সুপারিশ করব।”
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব কি ভালো হবে? আবু হেনা বললেন, 'না'