১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সিগারেটেই বাড়তি ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব, বলছে ‘প্রজ্ঞা’ ও ‘আত্মা’

“প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে নিত্যপণ্যের তুলনায় আরেক দফা সস্তা হবে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্য।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jun 2025, 01:56 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:13 PM

চূড়ান্ত বাজেটে সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে সিগারেট খাত থেকেই অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসবে বলে মনে করে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রগতির জন্য জ্ঞান— প্রজ্ঞা ও অ্যান্টি টোবাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স— আত্মা।

বৃহস্পতিবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তামাক কর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাজেট পরবর্তী এ সংবাদ সম্মেলনে মূল উপস্থাপনায় ছিলেন প্রজ্ঞার হাসান শাহরিয়ার। অতিথি বক্তা ছিলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান— সিপিডির রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য উদ্ধৃত করে হাসান শাহরিয়ার বলেন, গত এক বছরে জনগণের মাথাপিছু আয় (প্রভিশনাল) বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ বাজেটে সিগারেটের দাম শুধু নয়, টানা ষষ্ঠ বারের মতো বিড়ির দাম এবং ১০ম বারের মত এর করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

“এতে আগের তুলনায় শুধু সিগারেট আরো সহজলভ্য হবে না, বিড়ি ব্যবসা আরো লাভজনক হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে।”

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য উদ্ধৃত করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

“এক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মধ্যে চালের (মিনিকেট) দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, সয়াবিন তেল (খোলা) ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, লেখার কাগজ (সাদা) ৭ দাশমিক ৬৯ শতাংশ। রুই মাছ ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ডিমের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অথচ তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি না করায় প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে নিত্যপণ্যের তুলনায় আরেক দফা সস্তা হবে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্য।”

২০২৫-২৬ সালের চূড়ান্ত বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য নিম্ন স্তর এবং মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৯০ টাকা নির্ধারণ করা, উচ্চ স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা এবং প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৯০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এছাড়া ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৫৫ টাকা, ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও করা হয়। পাশাপাশি সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার কথা বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

হাসান শাহরিয়ার বলেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ধূমপান কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৯ লাখ তরুণসহ মোট ১৭ লাখের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

“সব দিকে এখন সংস্কার চললেও তামাক খাতে তা উপেক্ষিত থাকছে।”

সৈয়দ ইউসুফ সাদাত বলেন, “নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তা যে কোনো একটি স্তরের সিগারেট বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করছে না। এই দুই স্তরকে একত্র করে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা ৪টি থেকে কমিয়ে তিনটি করা প্রয়োজন।”

সংবাদ সম্মেলনে আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান  সঞ্চালনায় ছিলেন আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ।