১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এমপি আনার হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তারদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে ডিবি

শুক্রবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ওয়ারী) আব্দুল আহাদ।

এমপি আনার হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তারদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে ডিবি
আনোয়ারুল আজীম আনার, ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 01:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:38 AM

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশদিনের রিমান্ড চাইবে গোয়েন্দা পুলিশ। 

শুক্রবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ওয়ারী) আব্দুল আহাদ।

“আমরা তিনজনকে আাদালতে পাঠিয়ে দশদিনের রিমান্ড চাইব।”

আনার খুনের ঘটনায় ডিবি হেফাজতে থাকা তিনজন হলেন- আমানুল্লা সাঈদ ওরফে শিমুল ভুঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুঁইয়া (৫৬), তানভীর ভুঁইয়া (৩০) ও সেলেস্টি রহমান (২২)।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, তিনজনকে তারা বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, আনার হত্যার হোতা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিন মিয়া। আর হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়ন করেছেন চরমপন্থি নেতা আমানুল্লা ওরফে শিমুল।

শেরেবাংলা নগর থানায় বুধবার আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগ এনে করা এই মামলায় ডরিন আসামি হিসেবে কারো নাম উল্লেখ করেননি।

বৃহস্পতিবার মামলার এজাহার আদালতে এলে তা গ্রহণ করে আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহবুবুল হক।

এদিকে ভারতীয় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বাংলাদেশে এসে বৃহস্পতিবার এই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

পরে অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, “ডিবি হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ডিবির কাছে ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছিল, সেই একই বর্ণনা ভারতের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছেও দিয়েছে।

“আর ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিয়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের লাশ বা দেহের অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে দেশের পুলিশ।”

ভারতের কলকাতায় সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের মাস খানেক আগেই ঢাকার গুলশান ও বসুন্ধরার বাসায় বসে খুনের ছক আঁটা হয় বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ।

তিনি বলছেন, সংসদ সদস্যকে হত্যার পর শরীরের বিভিন্ন অংশ টুকরো করে হলুদ লাগিয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার কারণে লাশ উদ্ধার করা কঠিন।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য আনার কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত ১১ মে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। প্রথমে কলকাতার বরাহনগরে তার বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন।

এরপর স্থানীয় থানায় জিডি করেন গোপাল বিশ্বাস। তদন্ত শুরু হয় দুই দেশে। বুধবার সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, নিউ টাউনের এক বাড়িতে খুন হয়েছেন এমপি আনার। 

এর পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতের পুলিশের বরাত দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহারে যা আছে

আনারের মেয়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সংসদ সদস্য ভবন এলাকার ৫ নম্বর ভবনের যে ফ্ল্যাটে এমপি আনার সপরিবারে থাকতেন, ৯ মে বিকালে সেখান থেকে ঝিনাইদহে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ১১ মে বিকালে ভিডিও কলে কথা হয় মেয়ে ডরিনের সঙ্গে, তখন বাবার কথাবার্তা তার কাছে অসংলগ্ন মনে হচ্ছিল।

পরে বারবার ফোন দিয়েও আর বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী ডরিন।

“১৩ মে তার বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে উজির মামা নামে এক আত্মীয়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ আসে, যার ভাষা ছিল এমন- ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সাথে ভিআইপি আছে।’ আমি অমিত শাহর কাছে যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দেব।”

পরে আরও মেসেজ আসে, যা তার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা পাঠিয়ে থাকতে পারে বাদীর অভিযোগ।

এজাহারে বলা হয়, খোঁজ-খবর করে কোথাও না পেয়ে কলকাতায় গোপাল বিশ্বাস নামে এমপি আনারের এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে দিয়ে ১৮ মে বারানগর থানায় জিডি করান বাদীর পরিবার। পরে তারা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারেন, তাকে ‘অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপহরণ’ করেছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুবাইয়াত জামান জানিয়েছেন, সর্বশেষ শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার এমপি হোস্টেল থেকে সংসদ সদস্য আনার বের হওয়ার কারণেই এ থানায় মামলা হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় করা এ মামলা গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগ তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন-

টুকরো করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় আনারের লাশ: পুলিশ

আনার হত্যার তদন্তে ভারতীয় গোয়েন্দা দল ঢাকায়

এমপি আনার খুন৪ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

আনারকে 'হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণেরঅভিযোগে ঢাকায় মামলা

টুকরো করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় আনারের লাশপুলিশ

কে এই আখতারুজ্জামানযার ভাড়া করা ফ্ল্যাটে 'খুন হন' এমপি আনার