Published : 11 Jun 2026, 04:05 PM
রাজধানীর মৌচাকে ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল ও ছাত্রদলের তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন-রমনা মডেল থানার যুবদলের সদ্য বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ওরফে লুৎফর রহমান পাটোয়ারী, যুগ্ম-আহ্বায়ক রেজাউল করিম এবং ১৯ নং ওয়ার্ড (রমনা) ছাত্রদলের টিম প্রধান ইসতিয়াক আলী রাকিব ওরফে গোল্ডেল রাকিব।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শাহ আলম রিমান্ডের এ তথ্য জানিয়েছেন।
এই তিন জনকে বুধবার রাতে ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল আলম খন্দকার আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেকের একদিনের রিমান্ডের আদেশে দেয়।
এর আগে বুধবার রিয়াজুল হাসান নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ দিন এবং আল আমিন মাহিন নামে আরেক আসামিকে চার দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

নিহত বিল্লাল রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, পরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সোমবার রাত ৮টার দিকে সালিশের কথা বলে মৌচাকের আনারকলি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ডেকে নিয়ে তাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন মঙ্গলবার রমনা মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিল্লাল খাবার হোটেলের ব্যবসা করতেন। বিল্লালের ভাগ্নে মোবারক হোসেন আকাশ মৌচাকের আনারকলি মার্কেটে ব্যবসা করেন। আসামি দিদারুল ইসলাম বাবু আনারকলি মার্কেটের ফুটপাত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা পরিষ্কারের বিলের নাম করে চাঁদা তুলত। এ নিয়ে দিদারুলের সঙ্গে বিল্লালের ভাগ্নি আকাশের বিরোধ চলছিল।
“সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আকাশের বিষয়ে দিদারুল কথা বলবে জানিয়ে বিল্লালকে আনারকলি মার্কেটের পেছনে ডেকে নেয়। দিদারুলসহ অন্য আসামিরা রাত পৌনে ৮টার দিকে বিল্লালের উপর হামলা চালায় ও মারধর করে। এক পর্যায়ে দিদারুলের নির্দেশে রিয়াজুল ছুরি দিয়ে বিল্লালের বুকে আঘাত করে। আকাশকেও মারধরা করে আহত করা হয়। আকাশের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়।”
এরপর বিল্লালকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত পৌনে ১০ টার দিকে মারা যান বিল্লাল।