Published : 25 Jun 2026, 09:31 PM
বাংলাদেশের পাশে থেকে চীন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন তিয়াওইউথাইয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্ঠৈকের আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। বলেন, “চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চীন আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের জন্য বাংলাদেশের আবেদনকে স্বাগত জানায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি উত্থাপন করেন। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ। আমাদের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে চাই।
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মাটির সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। তার সরকার এর বিরুদ্ধে সর্বদা একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতিগত নিরাপত্তা অবস্থান নেবে। কিন্তু এটি করা হবে আক্রমণাত্মক, দৃঢ় কূটনীতি এবং সংলাপের মাধ্যমে।“
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, “এই সংকট সমাধানে আমাদের বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

“গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী তারেককে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা সর্বদা ইতিবাচক সহযোগিতার পক্ষে থাকবেন। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবেন এবং এই সংকটে তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন।”
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “অনেক সমঝোতা সই হয়েছে যেটা আপনারা শুনেছেন। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে, চীন-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল নির্মাণের বিষয়টা।
“এর মাধ্যমে আমি যেটা আপনাদেরকে শেয়ার করতে চাচ্ছি- এই সফর ঐতিহাসিক। বাট ইট উইল বি মুভিং রেলেশনশিপ, বাংলাদেশ-চায়না সম্পর্ক নতুন সমন্বিত সম্পর্ক। এ নিউ লাইটস, দ্যাট উইল বি বেইজড অন মিউচুয়াল রেসপেক্ট।”
তিনি বলেন, ‘‘দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন উইথ স্ট্রং সাপোর্ট। তিনি বলেছেন যে, তারেক রহমানের লিডারশিপ এবং গর্ভনেন্সের প্রতি চীনের জনগণ ও সরকারের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
“তারা অত্যন্ত আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী তারেকের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যৌথ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির রূপরেখা চীনের আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারণার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
“উভয় নেতা একমত হয়েছেন যে, এটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন ভোরের সূচনা করবে এবং একটি ব্যাপক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গঠিত হবে, যার আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ সকল ক্ষেত্রে ও খাতে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”
উপদেষ্টা বলেন, ‘‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মাটিতে পা রাখার পর গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রভাব ও সদিচ্ছা আমাদের দুই দেশের নিজ নিজ নেতৃত্বের মধ্যে এই সহযোগিতাকে গতিশীল করতে শুরু করেছে।
“বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। সুতরাং সারসংক্ষেপে, আমি আপনাদের জানাতে চাই যে এই সফর শুধু ঐতিহাসিকই হবে না, বরং এটি এমন এক গতিশীল সম্পর্ক স্থাপন করবে যা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এক নতুন ও ব্যাপক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
“বেইজিংয়ে আজকের দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক এবং গতকাল (বুধবার) বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটিই প্রমাণ করে যে, বিশ্ব এবং বিভিন্ন বিশ্বনেতারা এখন নেতৃত্বের জন্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক কূটনীতি ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা কৌশলগত ও সহযোগিতামূলক বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের জন্য এক নতুন বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এমন একজন প্রভাবক হিসেবে দেখা হয়, যিনি বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক সম্পর্ককে মঙ্গলের জন্য প্রভাবিত করবেন এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর জনগণের।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য রাখেন।
আরও পড়ুন: