তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজায় বন্ধু, স্বজন, সহকর্মীরা
বিকাল ৫টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হবেন সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
বাংলাদেশের আধুনিক সংবাদসেবার ইতিহাসে অনেক প্রথমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদকের জানাজা সম্পন্ন হয়।
এদিন বিকাল ৫টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হবেন সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
এর আগে দুপুর আড়াইটা থেকে সেখানে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সাংবাদিক খালিদীকে শেষ বিদায় জানান তার বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের পথিকৃৎ তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তরফে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাইসুল ইসলাম।
শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন, নির্বাহী সম্পাদক এহসানুল হক বাবু; বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, কলাম লেখক চিররঞ্জন সরকার, সালেক খোকন, জাসদের নাজমুল হক প্রধান, এমআরডিআইয়ের হাসিবুর রহমান মুকুর, ইডাসের মৃত্যুঞ্জয় দাশ, বিবিসির সাংবাদিক কাদির কল্লোল, অভিনেতা তারিক আনাম খান, অভিনেত্র নিমা রহমান, সাংবাদিক শাহরিয়ার করিম, শওকত মাহমুদ, আশরাফ কায়সার, মোহাম্মদ আলী সিদ্দীকী, বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ, জুলহাজ নুর, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান, সাংবাদিক গাজী নাসির উদ্দীন আহমেদ, জুলহাস রিপন, সোহেল পারভেজ, রেজা ডিকেন, রাফে আদেল, মহাকাশ মিলন, প্রয়াতের সাবেক সহকর্মী জাহিদ নেওয়াজ খান, মুনীরুল ইসলাম, নঈম তারিক, অভি, কাজী নাফিয়া রহমান, প্রকাশ বিশ্বাস, রুবি, রিয়াজুল বাশার, শাহরিয়ার, মহিউদ্দিন, মিন্টু মিঠুন, রুবাইয়্যাৎ, মুয়ীদ।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার কফিন গ্রহণ করেন ভাতিজা তারাফ তাজিজ খালিদী ও ভাগনি-জামাই আকিফ আহমেদ। এসময় সহকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এরপর কফিন নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রিয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস প্রাঙ্গণে। সেখানে মরদেহ রাখা হয় দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।
এরপর সাংবাদিক খালিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তার বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাকে দেখেন।
বাংলাদেশের সংবাদ সেবাকে ডিজিটাল দুনিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার পুরোধা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বেই দুই দশক আগে রচিত হয়েছিল এক ইতিহাস।
শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথমার্ধে। অন্যান্য বার্তা সংস্থার মত ‘বিডিনিউজ’ তখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য খবর সরবরাহ করত। দেশের অন্য সংবাদ সংস্থাগুলো টেলিপ্রিন্টারে খবর সরবরাহ করলেও বিডিনিউজ এ কাজটি শুরু করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
২০০৬ সালে বার্তা সংস্থাটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বদলের পর এর খোল-নলচে বদলে যায়। ওই বছর জুলাই মাস সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানির রূপ দেয়।
২৩ অক্টোবর নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৪ ঘণ্টার পথচলা; বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদ যুগের সূচনা তখনই।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতায় নাম লেখান ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতোকত্তোর শেষ করে তিনি যোগ দেন সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায়।
তিন দশকের বর্ণাঢ্য পেশাজীবনে তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংবাদিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
