তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজায় বন্ধু, স্বজন, সহকর্মীরা
মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে।
বাংলাদেশের আধুনিক সংবাদসেবার ইতিহাসে অনেক প্রথমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজায় অংশ নিলেন তার বন্ধু, স্বজন, সাবেক ও বর্তমান সহকর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিরা।
শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদকের জানাজা হয়। পরে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
জানাজার আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশের বক্তব্য পড়ে শোনান প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদুল কবির।
প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্বদীপ দাশ বলেন, “তার রেখে যাওয়া আদর্শ এবং কাজ এগিয়ে নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি নির্ভীক, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করতেন।
“আমাদের তিনি শিখিয়েছেন কঠিন প্রশ্ন করতে। চাপের মুখে মাথা নত না করতে। সত্য যতই অস্বস্তিকর হোক, মানুষের সামনে তা তুলে ধরতে।”
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, “তার এই আপসহীন সাংবাদিকতার কারণে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ক্ষমতাসীন এবং দুর্বৃত্তদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে।
“মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। প্রাপ্য বৈধ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিশোধস্পৃহা কিংবা প্রতিহিংসার কাছে তিনি নিজের সততা ও আদর্শ বিকিয়ে দেননি।”
জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন প্রয়াতের ভাতিজা তারাফ তাজিজ খালিদী।
তিনি বলেন, “আমার বাবা ২০১৯ সালে মারা যাওয়ার পর আমার চাচ্চু আমাদের বাবার মতো আগলে রেখেছেন। আমার স্কুল, কলেজে আমার চাচ্চুই ছিলেন আমার অভিভাবক। আমাদের জীবনে তার অবদানের কথা এই অল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না।”
এরপর প্রয়াতের ছেলে, বাংলাদেশ নিউজ ২৪ আওয়ার্স লিমিটেডের পরিচালক রাদ শারার খালিদীর বক্তব্য পড়ে শোনান তারাফ খালিদী।
রাদ শারার খালিদী বলেন, “পেশাগত জীবনেও আব্বুর কিছু আদর্শ ছিল, যেগুলোর সঙ্গে তিনি কখনো আপস করতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন সৎ, নির্ভীক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতায়। তার কাছে সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা ছিল না; এটি ছিল একটি দায়িত্ব এবং বিশ্বাসের জায়গা।
“এই বিশ্বাসের কারণে তাকে জীবনে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। এখানে উপস্থিত অনেকেই সেই অস্থির এবং কঠিন সময়গুলোতে তার পাশে ছিলেন। আমাদের পরিবার আপনাদের সেই ভালোবাসা, সাহস এবং সমর্থন কোনোদিন ভুলবে না।”
জানাজার আগে দুপুর আড়াইটা থেকে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা হয়। অশ্রুমাখা ভালোবাসায় সাংবাদিক খালিদীকে শেষ বিদায় জানান তার সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ছোট বোন শরমীন সুবহানী, ভগ্নিপতি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ আর এম জোয়াহেরুল ইসলাম, ভাগ্নি জয়িতা ইসলাম ও ভাগ্নি জামাই আকিফ আহমেদ।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তামান্না খালিদী, ভাতিজা তারাফ তাজিজ খালিদী ও ভাতিজি দিয়া খালিদী ছাড়াও তার খালাতো ও চাচাতো ভাইবোনেরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের পথিকৃৎ তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তরফে শ্রদ্ধা জানান তার সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম।
ভারতীয় হাই কমিশনের তরফে শ্রদ্ধা জানাতে এসে প্রথম সচিব (রাজনৈতিক, প্রেস ও তথ্য বিভাগ) গোকুল বিমল কালা বলেন, “যদিও তার কণ্ঠ আজ স্তব্ধ হয়ে গেছে, তবে আমি নিশ্চিত যে তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্মের তরুণ সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করবে।”
রাজনীতিকদের মধ্যে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সময়ের আলোর উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে শেষ বিদায় জানান বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। এসেছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহও।
স্পেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত শাহেদ আখতার, সাবেক সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান চৌধুরী (মঞ্জু), সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব আমিনুল ইসলামও যোগ দেন শ্রদ্ধার আয়োজনে।
বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) ও সভাপতি ফারুক হাসান শেষ বিদায় জানান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদককে।
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও সিইও শামসুর রহমান মোমেন, প্রয়াতের সাবেক সহকর্মী, আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন ও নির্বাহী সম্পাদক নির্বাহী সম্পাদক এহসানুল হক বাবু এসেছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে।
চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, টাইমস অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, নিউএজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়েজ আহাম্মদ, চ্যানেল আই অনলাইন সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, এটিএন নিউজের প্ল্যানিং এডিটর সারওয়ার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ বার্তা সম্পাদক গনি আদম, বাংলাদেশে এপির ব্যুরো প্রধান জুলহাস আলম রিপন এসেছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে।
সাংবাদিক সমিতির নেতাদের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক এবং ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ওকাব) সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, এটমিক রিপোর্টার্স বাংলাদেশের সভাপতি শামীমা সুলতানা লাবু শ্রদ্ধা জানান তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রতি।
খালিদীর শেষযাত্রায় এসেছিলেন এমআরডিআইয়ের হাসিবুর রহমান মুকুর, বেঞ্চমার্ক পিআর এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ কায়সার, সাংবাদিক সুকান্ত গুপ্ত অলোক, আনিস আলমগীর, কাদির কল্লোল, আজিজুল পারভেজ, সিরাজুল ইসলাম আবেদ, নূর সাফা জুলহাস, সাদ্দিফ অভি ও ইউসুফ আলী শিমুল।
শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন অভিনেতা তারিক আনাম খান, অভিনেত্রী নিমা রহমান এবং বিটিভির সাবেক উপ-মহাপরিচালক খ ম হারূনও, চলচ্চিত্র নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর, বটতলার নাট্য নির্দেশন মোহাম্মদ আলী হায়দার।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও এসেছিলেন।
সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আইনজীবী নোমান হোসাইন তালুকদার এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মশহুরুল আমিন মিলন ও জিকরুল আহসান শাওনও এসেছিলেন।
গীতিকবি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সালেক খোকন এবং কলাম লেখক চিররঞ্জন সরকার শ্রদ্ধা জানান তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রতি।
শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তনীদের সংগঠন ইডাসের নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ ইশতিয়াক মাজিদ, রুবিনা খান, আমিনুল ইসলাম খান, নুরুল হক আসীম, আবদুর রাজ্জাক মিয়া, আওরংগজেব মাহবুব, সামাদ আল আজাদ, শাহাদাত হোসেন, মোস্তফা শিবলী, ইলোরা ফারুক, তৌকির রেজা চৌধুরী, মামুনুল হক মামুন, জাকির হোসেন, আসাদুজ্জামান, হুমায়রা চৌধুরী, আহমেদ আহসানুজ্জামান, মৃত্যুঞ্জয় দাস, মো. বায়েজীদ, তানভীর আল মাসুদ, বিপ্র বিশ্বাস ও প্রত্যয় ইসলাম। এক সময় এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তৌফিক খালিদী।
শ্রদ্ধা জানাতে আসেন রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ সাহেদুল আলম ও মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ম্যানেজার শামীম আহমেদ এবং আবুল খায়ের গ্রুপের জনসংযোগ প্রধান রাফে সাদনান আদেল।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাবেক কর্মীদের মধ্য গাজী নাসিরউদ্দীন আহমেদ, মুনীরুল ইসলাম, প্রকাশ বিশ্বাস, সুমন মাহবুব, পলাশ দত্ত, সঞ্জয় দে, আহমেদ মুনীরুদ্দিন তপু, হুমায়ুন হাশিম, নঈম তারিক, রিয়াজুল বাশার, প্রদীপ চৌধুরী, সোহেল পারভেজ, নুরুল ইসলাম হাসিব, সুলাইমান নিলয় ও ওয়াসেক বিল্লাহ সৌধ এসেছিলেন।
আরও এসেছিলেন রাশেদ আহসান, জসিম উদ্দিন, এহসান আলীম অভি, ইকবাল শাহরিয়ার, শাহ ফাহিম আল গণি, দেবাশীষ দেব, সনৎ বাবলা, মাসুদ পারভেজ, রুবি আহমেদ, ফাহমিদা ওয়াদুদ চৈতী, সামিন সাবাবা, মাহবুবা ডিনা, শায়লা রুখসানা দিনা, কাজী শাহরিন হক তিন্নী, তৃষা সামিরা, রাশেদ রেজা ডিকেন, আশিক হোসেন ও তামান্না রাইনা, মোতাসিম বিল্লাহ পিন্টু ও আব্দুল মান্নান দীপ্ত।
মিন্টু চৌধুরী, আজিজ হাসান, আব্দুল্লাহ আল মুয়ীদ, রোহান জিয়াদ, ওসাম উল সুফিয়ান তালুকদার, হুসাইন আহমেদ, ইমরান হোসেন ইমন, মহিউদ্দিন ফারুক, জিএম মোস্তাফিজুল আলম, কামাল হোসেন তালুকদার, পিয়াস তালুকদার, তাবারুল হক, সাজিয়া আফরিন, মাহমুদ জামান অভি, কাজী নাফিয়া রহমান, শামিমা নাসরিন লাকি, কাজী শাহরীন হক তিন্নি, গোলাম মুজতবা ধ্রুব, আল আমীন দেওয়ান, পাভেল রহমান, মকফুল হোসেন সাদ, আফরিন মীম, সাফাত রহমান, রুবাইদ ইফতেখার মাহবুব, খান এ মামুন ও বিমল এসেছিলেন।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার কফিন গ্রহণ করেন ভাতিজা তারাফ তাজিজ খালিদী ও ভাগনি-জামাই আকিফ আহমেদ। এসময় সহকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এরপর কফিন নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রিয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস প্রাঙ্গণে। সেখানে মরদেহ রাখা হয় দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।
এরপর সাংবাদিক খালিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তার বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাকে দেখেন।
বাংলাদেশের সংবাদ সেবাকে ডিজিটাল দুনিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার পুরোধা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বেই দুই দশক আগে রচিত হয়েছিল এক ইতিহাস।
শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথমার্ধে। অন্যান্য বার্তা সংস্থার মত ‘বিডিনিউজ’ তখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য খবর সরবরাহ করত। দেশের অন্য সংবাদ সংস্থাগুলো টেলিপ্রিন্টারে খবর সরবরাহ করলেও বিডিনিউজ এ কাজটি শুরু করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
২০০৬ সালে বার্তা সংস্থাটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বদলের পর এর খোল-নলচে বদলে যায়। ওই বছর জুলাই মাস সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানির রূপ দেয়।
২৩ অক্টোবর নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৪ ঘণ্টার পথচলা; বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদ যুগের সূচনা তখনই।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতায় নাম লেখান ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতোকত্তোর শেষ করে তিনি যোগ দেন সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায়।
তিন দশকের বর্ণাঢ্য পেশাজীবনে তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংবাদিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
