Published : 28 Jun 2025, 06:19 PM
ব্রিটিশরা এ উপমহাদেশে নিজেদের স্বার্থে কিছু ‘কেরানি তৈরির শিক্ষাব্যবস্থা’ চালু করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
তিনি বলেছেন, “ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হয়েছি, তারপর পাকিস্তানিদের কাছ থেকে স্বাধীন হয়েছি, কিন্তু আমরা মানসিকতার দিক থেকে সেই কেরানি-মানসিকতা এখনও অতিক্রম করতে পারিনি। ফলে আমাদের দুর্ভাগ্যজনক স্ট্যাটিস্টিকস হচ্ছে এই, আমাদের যে বেকারত্ব, বেকারদের মধ্যে সিংহভাগই তথাকথিত শিক্ষিত বেকার।”
ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের শিক্ষা যেটাকে আমরা আধুনিক শিক্ষা বলি, সেটি চালু হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। ব্রিটিশরা চালু করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কিছু কেরানি তৈরি করা, যারা বর্ণে কালো কিন্তু মানসিকতার দিক দিয়ে সাদা। যারা কখনই এ দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মবোধ করবে না। তারা কলোনিয়াল প্রভুদের সার্ভিস দেবে, স্বার্থ রক্ষা করবে। এইটা ছিল আমাদের আধুনিক শিক্ষা চালু হওয়ার পেছনে মূল অনুভূতি।”
দেশে কারিগরী শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে বিধান রঞ্জন রায় বলেন, “উচ্চশিক্ষা, ক্রমাগত উচ্চশিক্ষা, উচ্চশিক্ষার ইলুউশন; কিন্তু আমরা কারিগরি শিক্ষাকে অবহেলা করি। আমাদের চোখের সামনে আমরা দেখছি, ভালো প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এমআইটি, কিংবা ইন্ডিয়ার আইআইটি রয়েছে, কিংবা জার্মান পলিটেকনিক রয়েছে, কিন্তু আমরা এদিকে তাকাই না, আমরা কারিগরি শিক্ষার দিকে যাই না।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। একটি হচ্ছে শিক্ষা ব্যক্তির মধ্যে যে সম্ভাবনা রয়েছে, তার বিকাশ সাধন করে। অন্যটি হচ্ছে শিক্ষা মানুষকে তার সমাজের বা রাষ্ট্রের উপযোগী করে গড়ে তোলে। এজন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনাতে এই দুইটি দিকের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।”
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব কে এম কবিরুল ইসলাম, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।