Published : 23 Jun 2025, 03:58 PM
‘ভুতুড়ে মামলা’ বন্ধে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলায় ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আলমের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে এ কথা বলেন শাজাহান খান।
শুনানিতে শাজাহান খান, আনিসুল হক, সালমান এফ রহমানের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন পিবিআইয়ের এসআই আমিরুল ইসলাম মীর।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
তিনি বলেন, “আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে সবচেয়ে বেশি লোক যেসব জায়গায় নিহত হয়েছে তার মধ্যে যাত্রাবাড়ী অন্যতম। আন্দোলনের পর যখন যাত্রবাড়ী থানা অবমুক্ত করা হয়, সেখানে ১৮টি লাশের স্তূপ দেখা যায়। তারা ফ্যাসিস্টের অন্যতম সহযোগী। তাদের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।“
শাজাহান খানের পক্ষে তার আইনজীবী আরিফ তালুকদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, “শাজাহান খান ৮ বারের সাবেক সংসদ সদস্য। গ্রেপ্তারের পর থেকে বারবার রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে। রিমান্ড চাইতে চাইতে সারা জীবন শেষ হয়ে যাবে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, শরীরে ৫টা ব্লক। ৭৮ বছর বয়স। প্রয়োজনে তাকে জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। ইতিপূর্বে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডের কোনো অগ্রগতি নেই। সাজানো রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে।“
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শাজাহান খান হাত তুলে কথা বলার অনুমতি চান আদালতের কাছে।
তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত আমি কিছু বলতে চাই। পরে আদালতকে বলেন, আমার আইনজীবী বলেছেন আমি অসুস্থ। যে কোনো মুহূর্তে একটা ঘটনা ঘটে যেতে পারে।“
পাবলিক প্রসিকিউটর ফারুকীকে উদ্দেশ্য করে শাহাজান খান বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষে যিনি আছেন তিনি বিজ্ঞ পিপি। উনি বিএনপির বড় নেতা৷ আমাদের বিরুদ্ধে ভুতুড়ে মামলা দিয়ে কেন বারবার রিমান্ডে নিচ্ছেন।“
এ সময় ভুতুড়ে মামলা বন্ধ করতে আদালতের প্রতি অনুরোধ রাখানে তিনি।
তখন বিচারক বলেন, “মামলা করা পিপির দায়িত্ব না। তিনি আদালতকে সহযোগিতা করেন।“
জবাবে ফারুকী বলেন, “আমাদের কাজ সরকারের পক্ষে আদালতকে সহায়তা করা।“
এসময় শাজাহান খানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনিসুল হক মাথা নেড়ে পিপির বক্তব্যকে সমর্থন করেন।
ওমর ফারুক বলেন, “আন্দোলনে দুই হাজারের উপর ছাত্র-জনতা নিহত হয়। পাঁচশোর উপর মামলা হয়েছে। বাকী মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন। ভিকটিমের পরিবার মামলা করছে। আমরা মামলা দায়ের করিনি। ঘটনায় যা উল্লেখ থাকে, তার উপর বলে থাকি। তারা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত।“
তিনি বলেন, “গণভবন, পার্লামেন্টে বসে তারা মিটিং, মিছিল করেছে। তিনি (শাজাহান খান) দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য। মিডিয়াতে এসে আন্দোলন দমানোর কথা বলেছেন। বাকী হত্যা মামলাগুলোতেও কিন্তু তারা আসবেন। ভিকটিমের পরিবার মামলা করছে। আমরা আদালতকে সহযোগিতা করছি। কাজেই পিপিদের ওপর ব্লেম দেওয়ার কারণ নেই। আমরা সরকারকে হেল্প করছি, আসামিদেরও হেল্প করছি। আমরা ন্যায়বিচার চায়।“
পরে আদালত আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমানের কাছে জানতে চান, তাদের কিছু বলার আছে কী না। কিছু বলার নেই বলে সে সময় জানিয়েছেন তারা।
পরে আদালত প্রত্যেককে দুইদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমান্ড মঞ্জুরের পরে আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের দেখে হেসে ফেলেন শাজাহান খান।
এ সময় সাংবাদিকের উদ্দেশে তিনি বলেন, "তোমরা কেমন আছো?"
পরে এক সাংবাদিক বলেন, "আমরা ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?"
উত্তরে শাজাহান খান বলেন, আমি ভালো আছি।
এরপর তিনি বলেন, "এক হাতে তালি বাজে না। এই যে ওই সময় মব সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা করলো। সেই বিচার হবে।"
এরপর তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “গত ২১ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ফুটওভার ব্রিজের নিচে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন সাজেদুর রহমান ওমর।
“ওইদিন বিকালে আসামিদের হামলায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অগাস্টে মারা যান ওমর।“
এ ঘটনায় সৈয়দ তানভীর আহমেদ গত ৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮১ জনকে আসামি করে মামলা করেন।