Published : 13 May 2026, 05:59 PM
রোদ ঝলমলে দিন শেষে বিকালের আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গিয়ে রাজধানী ঢাকায় নেমেছে ঝুম বৃষ্টি।
বুধবার বিকাল ৪টার পর রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে গরম কিছুটা কমেছে।
এদিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ‘ভারি থেকে অতিভারি’ বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তা ‘ভারি বৃষ্টি’ এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তা ‘অতিভারি বর্ষণ’ বলে আখ্যায়িত করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ ফয়জুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে ওই এলাকাসহ পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। অন্য একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
“এর প্রভাবে বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
“সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।”
তবে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, বুধবার ভোর ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ঈশ্বরদী ও যশোরে, ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সিলেটে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ সময়ে নেত্রকোণায় সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ‘ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ’ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ‘অতিভারি বৃষ্টিপাত’ এবং উজানে ভারতের মেঘালয় ও সিকিম প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের তথ্য এসেছে।
এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আবারও বাড়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম ও অরুণাচল, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে আগামী তিন দিন ‘ভারি থেকে অতিভারি’ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতি আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে বলেও তুলে ধরা হয় বুলেটিনে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আরও একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরের দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল আগামী তিনদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভুগাই-কংস্, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ভুগাই-কংস নদী নাকুয়াগাঁও পয়েন্টে প্রবাহিত হতে পারে সর্তকসীমায়।
নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরের দুইদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।