Published : 14 Jun 2026, 04:53 PM
সরকারি-বেসরকারি চাকুরেদের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থাকায় যে ভাতা মেলে, তার ওপর উৎসে কর দ্বিগুণ হয়েছে; একই হারে বেড়েছে প্রশিক্ষণ ও সম্মানী ভাতার ক্ষেত্রেও।
আয়কর কর্মকতারা মনে করেন, এই বর্ধিত করের প্রভাব সরকারি চাকুরেদের ওপর বেশি পড়বে, কারণ এ ধরনের আয়ের সুযোগ তারাই বেশি পান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই অর্থের এক তৃতীয়াংশ অর্থ জোগানের ভার পড়েছে কর আদায়কারী সংস্থা-এনবিআরের ঘাড়ে।
নতুন বিধান রেখে উৎসে কর বিধিমালা প্রকাশ করেছে এনবিআর। তাতে দেখা যায়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ‘মিটিং ফি’, ‘ট্রেনিং ফি’ বা ‘সম্মানী বিল’ এর ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ করা হয়েছে।
বর্তমানে এ ধরনের আয়ে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। এটি কাটা হয় অর্থ দেওয়ার সময়ই। এটা না কাটলে যার সইয়ে অর্থ দেওয়া হবে, তার কাছ থেকে সেটি নেওয়ার বিধান রয়েছে।
নানাবিধ অর্থ সংকটে ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে উপস্থিত থাকার মাধ্যমে সরকারি চাকুরেদের যে প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়া হত, তা বন্ধ করে দেয়।
কিন্তু ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা আসে।
প্রশিক্ষক সম্মানী ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করা হয় প্রতি ঘণ্টার জন্য। এই ভাতা যুগ্নসচিব ও তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য।
উপ-সচিব বা তার চেয়ে নিচের পদের কর্মীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৩ হাজার টাকা।
প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতা হিসেবে ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে প্রতি দিনের জন্য, যা ৯ম গ্রেড ও তার চেয়ে উঁচু পদের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য।
আর প্রতিদিনের জন্য ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করা হয় ১০ম গ্রেড বা তার চেয়ে নিচের পদের কর্মীদের জন্য।
এছাড়া সরকারি কর্মীরা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, খাতা মূল্যায়ন, লেখা, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, সেমিনারে উপস্থাপনার জন্য সম্মানী পেয়ে থাকেন।