Published : 23 Apr 2026, 10:17 PM
ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে যাওয়ার পথে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘আটকে’ দেওয়ার অভিযোগে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট মামলা করেছেন এক বৃদ্ধা।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান (মামুন) বৃহস্পতিবার এই রিট আবেদন করেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের ওসিকে (ইমিগ্রেশন) সেখানে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, “সংবিধানের ৩৬ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ দ্বারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ধর্মচর্চার অধিকার যে কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী, নিষ্ঠুর ও অবিবেচক আচরণে ওই বৃদ্ধার আকাঙ্ক্ষা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।”
রিট আবেদনে এই ‘অন্যায়ের’ প্রতিকার হিসেবে এবং বাদীর ‘অপূরণীয় মানসিক ক্ষতি, তীব্র যন্ত্রণা ও ভোগান্তির’ জন্য বিবাদীদের ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ‘ন্যায়বিচারের’ স্বার্থে এবং তাৎক্ষণিক ‘আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি’ লাঘবে রুল নিষ্পত্তির আগে জরুরিভিত্তিতে ১০ লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন করা হয়।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসানের দাবি, ওমরাহ করতে যেতে ২০২৫ সালে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব ফাতেমা বেগম। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স আরো খানিকটা কম আছে। ফাতেমা বেগম বিমানবন্দরে গেলে কোনো ‘বৈধ কারণ’ ছাড়াই তাকে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, “ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা বিদেশ গমনের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তারপরও কোন কারণ না দেখিয়েই সৌদি আরব যেতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বাধা দিয়েছে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
“এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পান। এমনকি তাকে মানসিক চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। হাই কোর্টের প্রধান ভবনের ২০ নম্বর কোর্টে শিগিগির রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হবে।”