Published : 20 May 2026, 02:45 PM
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর এসব খাবারের মান নিশ্চিতে প্রতিটি স্কুলের তদারকি কমিটিতে অন্তত তিনজন মাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রাজধানীর বেইলি রোডে গাইড অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী কথা বলছিলেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি স্কুলে নিউট্রিশাস খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা সরকার করছে।”
অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী ১০টি অঞ্চল থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করা ৬টি অঞ্চলের ৫৭ জন ‘হলদে পাখি’কে (৬ থেকে ১০ বছর বয়সী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) তাদের কৃতিত্বের জন্য ‘নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ মেডেল, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমি আজকে আমাদের মেয়ে সন্তান বা হলদে পাখিদের মাঝে নেই, আমি আগামীর বাংলাদেশের নেতাদের মাঝে আছি।”
গার্লস গাইডের শত বছরের বেশি ইতিহাস এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তাদের ফিলোসফি, আইডিওলজি এবং কার্যক্রমের অনেক প্রয়োজন আছে। শুধু বাংলাদেশে না, বিশ্বব্যাপী যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই নতুন সরকার কাজ করছে।”
শিক্ষার্থীরা যেন ছোটবেলা থেকেই নাগরিক দায়িত্ব, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা পায়, সেজন্য পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের গার্লস গাইডেও আসতে হবে না, তারা পাঠ্যক্রম থেকেই শিখবে।”
কারিকুলামে পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের বিষয়ও যুক্ত করার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীরা যেন নিজের জামাকাপড়, স্কুল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলে, সেই শিক্ষা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ববি হাজ্জাজ।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) প্রফেসর ইয়াসমিন আহমেদ। ‘হলদে পাখি’ সম্প্রসারণে করণীয় বিষয়ে বক্তব্য দেন ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রশাসন) সাবিনা ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, গার্ল গাইডের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, আঞ্চলিক, জেলা ও স্থানীয় কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃত্তের গানের মধ্য দিয়ে অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানটি শেষ হয়েছে।