পোস্তগোলায় দুই ট্রাকের ‘রেষারেষির সংঘর্ষে’ নিহত ২
এ ঘটনায় আহত একজন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
ঢাকার কদমতলী এলাকায় দুই ট্রাকের ‘পাশাপাশি সংঘর্ষে’ পাশে থাকা মিশুক ও অটোরিকশার দুই চালক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে পোস্তগোলা গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—ব্যাটারি অটোরিকশার চালক জাকির হোসেন (৫৫) ও মিশুক চালক জাহাঙ্গীর পোদ্দার (৫০)। এ দুর্ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশার চালক সুভাষ চন্দ্র আহত হয়েছেন।
নিহত জাকির হোসেনের ছেলে মাহিন হোসেন সকালে বলেন, “গতরাতে পোস্তগোলা গোলচত্বর সিএনজি স্টেশনের সামনে দুটি ট্রাক রেস করে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় দুই ট্রাকের দুই পাশে থাকা অটোরিকশা ও মিশুককে সজোরে ধাক্কা দেয়।
“এতে মিশুকে থাকা ও অটোরিকশায় থাকা দুজন পাশের খাদে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পথচারীরা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা জানান, তারা আর বেঁচে নেই।”
জাকির হোসেন হবিগঞ্জের আজমেরীগঞ্জ থানার রসুলপুর গ্রামের মিন্নাত আলীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কদমতলী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার পাঁচ সন্তান রয়েছে।
আরেক নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী হাওয়া বেগম বলেন, “আজ ভোরের দিকে মেডিকেলে এসে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। জানতে পারি, ট্রাকের ধাক্কায় আমার স্বামী মারা গেছেন।”
জাহাঙ্গীর পটুয়াখালী সদরের শাহ আলম পোদ্দারের ছেলে।
এ দুর্ঘটনায় আহত সিএনজি অটোরিকশার চালক সুভাষ চন্দ্র (৩৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি পোস্তগোলা গোলচত্বরের সিএনজি স্টেশনের সামনে দুই ট্রাকের রেষারেষিতে সংঘর্ষ ঘটে।
“এ সময় ট্রাকের দুই পাশে থাকা একটি মিশুক ও অটোরিকশার দুই চালক গুরুতর আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আরও একজন আহত রয়েছেন; তাকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
