Published : 21 Jan 2026, 10:48 AM
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বুধবার।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, “"আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করবো। আশা করছি, আদালত তাদের অব্যাহতি দিবেন। যদি অভিযোগ গঠন হয়ে যায় তাহলে ট্রায়াল ফেইস করবো।"
‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ এর জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে এই মামলার আসামিরা সরকারকে ‘উৎখাতের’ চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম ‘জয় বাংলা ব্রিগেড' প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ,
এলাহী নেওয়াজ মাছুম, সাজ্জাদুল আনামও এ মামলার আসামি।
গত ৫ জানুয়ারি মামলাটি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ছিল। তবে ওইদিন আক্তারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে ২১ জানুয়ারি রাখা হয়।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকেসহ ২৫৯ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।
সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক গত ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এ মামলা করেন।
তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়।
বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন।
“বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এ বক্তব্য সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।”
'রাষ্ট্রদ্রোহ': বিচারের জন্য প্রস্তুত হাসিনাসহ ২৮৬ জনের মামলা
রাষ্ট্রদ্রোহ: শেখ হাসিনাকে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
'রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড': হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা