Published : 22 Dec 2025, 10:58 PM
আগামী বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা কবে থেকে শুরু হবে সে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এবং রমজানের পর এপ্রিল বা মে মাসে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।
এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পরীক্ষা আয়োজনে মোটামুটি ৪০ দিন সময় প্রয়োজন হয়। ফলে কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে ওই দুই মাসে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরীক্ষা আয়োজন করা যাবে কি-না, তা নিয়েও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় আছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি, যাতে সরকার যে কোনো সময় বললে পরীক্ষা নিতে পারি। পরীক্ষার ব্যাপারে কিছু চিন্তা-ভাবনা কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিলে আমাদের আমরা পরীক্ষা নেব।”
তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, এর মধ্যে কীভাবে পরীক্ষা হবে? এরপর রমজান। এসএসসির মত পাবলিক পরীক্ষা কোন সময় আয়োজিত হবে সে সিদ্ধান্ত সরকারের। তাই পরীক্ষা কবে শুরু হতে পারে সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না।”
একসময় ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর রেওয়াজ ছিল। ২০২০ সালেও ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছিল এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু এরপর কোভিড মহামারীর কারণে শিক্ষাপঞ্জি ওলট-পালট হয়ে যায়।
পরের তিন বছর ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করা যায়নি। ধাপে ধাপে সময় এগিয়ে এনে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা আবারও ফেব্রুয়ারিতে ফিরিয়ে আনা হয়।
সে বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি এ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এরপর গণঅভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতি এবং রমজানের কারণে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এসএসসি পরীক্ষা শুরুর তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। তাই ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু না হলে সেটাকে পেছানো বলা যাবে না।
“এবছর এসএসসি পরীক্ষা হয়েছিল এপ্রিলে। আগামী পরীক্ষাও এপ্রিলে শুরু হতে পারে, মে মাসেও হতে পারে। আবার এপ্রিল-মে মাসে ঘূর্ণিঝড়-বন্যার একটা বিষয় আছে। এসএসসি পরীক্ষা কবে হবে সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা প্রস্তুতি রাখছি, সরকারে সিদ্ধান্ত পেলে পরীক্ষার আনুষ্ঠিকতা শুরু হবে।”
গত বছর ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ মে এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা এবং ১৫ থেকে ২২ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা আয়োজনের পরিল্পনা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে ১৪ ও ১৫ মের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়।
পরে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৮ মে। আর ২৯ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত নেওয়া হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। এরপর ২৬ জুন থেকে শুরু হয় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।
আগামী বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কবে নাগাদ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “আগে এসএসসি পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হোক, তারপর এইচএসসিরটা নিয়ে ভাবা যাবে।”
২০২৬ সালে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হবে। তবে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের প্রশ্নে এ পরীক্ষায় বসতে হবে।
আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় যে শিক্ষার্থীরা বসবেন তারা নবম শ্রেণিতে বাতিল হয়ে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করেছিলেন। গতবছর সেপ্টেম্বরে ওই শিক্ষাক্রম বাতিল হয়ে যাওয়ার পর তারা বিভাগ বিভাজনসহ ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণিতে পড়েছেন। তাই আগামী বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হবে।
আর চলতি বছর যে শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসেছেন তারা ২০১২ সালে প্রণীত শিক্ষাক্রমেই নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়েছেন। তাই আগামী বছর যে শিক্ষার্থীরা মানোন্নয়ন বা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসাবে এসএসসি পরীক্ষায় বসেছেন, তাদের পরীক্ষা হবে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রণীত ‘নতুন শিক্ষাক্রমে’ নবম-দশম শ্রেণির বিভাগ বিভাজন উঠিয়ে দেওয়া হলেও ওই ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর সে শিক্ষাক্রম বাতিল ঘোষণা করে অন্তর্বতীকালীন সরকার।
চলতি বছর থেকে ওই শিক্ষার্থীদের দশম শ্রেণিতে আবার বিভাগ বিভাজন ফিরিয়ে আনা হয়। শিক্ষাক্রম বাতিল ঘোষণা করে ওইদিন জারি করা পরিপত্রে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
বিভাগ-বিভাজন ফিরিয়ে এনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস, প্রশ্নের ধরণ ও নম্বর বণ্টন গত ২৮ ডিসেম্বর প্রকাশ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। পরে ২ জানুয়ারি বাংলা বিষয়ের সিলেবাসে কিছুটা পরিবর্তন এনে সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছিল।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে এসএসসির ফরম পূরণ শুরু হবে। বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। ফি জমা দেওয়া যাবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
আর পরীক্ষার্থী প্রতি ১০০ টাকা হারে বিলম্ব ফিসহ অনলাইনে ফরমপূরণ করা যাবে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিলম্ব ফিসহ অনলাইনে ফি জমা দেওয়া যাবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
আগামী বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণের সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়সহ ফরম পূরণে এ ফি দিতে হবে।
আর ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়সহ ফরম পূরণের ফি ২ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।