Published : 14 May 2026, 06:08 PM
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ শ্রেণি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করছে বলে মনে করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তার মতে, প্রাথমিকের প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করেছে বলে সর্বশেষ প্রকাশিত জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন বা এনএসএ-২০২২ প্রতিবেদনে উঠে আসলেও এর থেকেও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী হয়তো পিছিয়ে পড়ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর সম্মেলন কক্ষে ‘গণসক্ষরতা অভিযান’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “এনএসএ অনুযায়ী প্রাথমিকের ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ছে ক্লাসরুমে। ৫০ শতাংশের মতো তার মানে পিছিয়ে পড়ছে না। আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, আসলে এর থেকে বেশি হয়তো পিছিয়ে পড়ছে। আমাদের অবস্থা আসলে ভালো না।
“আপনি কোনো একটা স্কুলে যাবেন, ৩০ জন শিক্ষার্থী আছেন। রোল নম্বর এক, দুই, তিন হয়তো মোটামুটি পারে। রোল নম্বর ষোলর পর যত যাবেন ততই অনেক কিছুই পাড়ছে না। বেসিক অক্ষরগুলো চিনতেও অনেকের সমস্যা হচ্ছে। আমি ইতিমধ্যে ছয়টা জেলায় অন্তত ২৫টা স্কুলে গিয়েছি।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা সাধারণত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থদের সবচেয়ে ভালো স্কুলে পরিদর্শনে নিয়ে যান মন্তব্য করে ববি হাজ্জাজ বলেন, “ওই জেলাগুলোর সেরা স্কুলে যাওয়ার পর আমার পর্যবেক্ষণ হলো, ৩০ শতাংশের উপরে আমরা যথাযথ শিক্ষা অর্জন করতে পারি। এটা আমি র্যান্ডম নম্বর বলছি, এটা থেকে খারাপ হতে পারে।”

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘রেমিডিয়াল শিক্ষা : কর্ম-অভিজ্ঞতা ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী।
শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ শ্রেণি উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না বলেও ভাষ্য তার। তিনি বলেন, “আসলেই খুব শক্তভাবে আমরা লক্ষ্য করেছি, স্কুলের ভেতরে ক্লাস থ্রিতে আছে কিন্তু সে ক্লাস থ্রির উপযোগী না। ক্লাস ফোরে আছে বা ফাইভে আছে কিন্তু ফোর বা ফাইভের উপযোগী না। কেউ তাকে সহযোগিতা করছে না।”
পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ ‘কর্মপরিকল্পনা’ গ্রহণ করছে তথ্য দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে বা ক্লাসে তাল মেলাতে পারছে না, তাদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করা হবে। লার্নিং সার্কেল, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, অভিভাবক অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কন্টেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।"
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।