Published : 03 May 2026, 08:34 PM
রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য স্থায়ী ‘প্রসিকিউশন সার্ভিস’ গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন।
রোববার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা শেষে সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “‘পার্মানেন্ট প্রসিকিউশন সার্ভিস’ আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে৷ আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি৷”
বর্তমান ব্যবস্থায় পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ হয় অনেকটা রাজনৈতিক বিবেচনায়। এর জন্য কোনো পরীক্ষা নেই; তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদও নেই।
স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন হলে বিচারিক আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটরদের নিয়োগ হবে স্থায়ী; যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। নির্ধারিত বেতন-ভাতাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো অন্য সুবিধা পাবেন তারা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৭ সালে ডিসি সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনার পর তখনকার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্বাধীন ‘প্রসিকিউশন সার্ভিস’ গঠন বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
এদিন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে এবারের চার দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন।
সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। দুর্নীতির সঙ্গে আপস করতে চান না তারা।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের যত দপ্তর রয়েছে সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম বা অভিযোগ থাকলে সেগুলো সরাসরি আমাদের জানাতে বলেছি৷ এসব অভিযোগ আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ‘অ্যাড্রেস’ করব৷ মাঠ পর্যায়ে তাদেরকে (ডিসি) সতর্ক থাকতে বলেছি৷
এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা, তাও দেখার বিষয়, বলেন আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “সরকারের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক ফাইল আসতে দেরি হয়৷ এটা যাতে না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে বলেছি৷ এছাড়া জেলা প্রশাসকরা যদি কিছু ‘সাজেস্ট’ করেন সে বিষয়গুলো জানাতে বলেছি, যাতে এসব বিষয় ভবিষ্যতে আমরা সমাধান করতে পারি৷”
মাঠ পর্যায়ে থেকে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানাবে এটা তো নিয়মিত কাজের মতো। অভিযোগ জানানোর জন্য আলাদা কোনো হেল্পলাইন বা বিশেষ কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে কিনা?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “এটার জন্য আলাদা ‘হেল্পলাইন’ প্রয়োজন নাই৷ সরকারের একটা বিভাগ থেকে আরেকটি বিভাগের সমন্বয় রয়েছে। সুতরাং এখানে হেল্পলাইনে প্রয়োজন হবে না৷”
জেলা প্রশাসকদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার সেশনে জেলা প্রশাসকদের কোনো প্রস্তাব ছিল না৷ এছাড়া মামলা জট কমানোর জন্য ডিসিদের কোনো পরামর্শ থাকলে জানাতে বলেছি৷
এবারের সম্মেলনে মোট অধিবেশন থাকছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি।
বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব সম্মেলনে উত্থাপিত হবে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।