Published : 07 Oct 2025, 06:42 PM
সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সাংসদ তামান্না নুসরাত বুবলীকে কাঠগড়ায় দেখে কাঁদলেন তার কন্যা নাজা। মেয়েকে আদালতের দরজায় দাঁড়ানো দেখে আপ্লুত হলেন বুবলীও।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামানের আদালতে মঙ্গলবার এ দৃশ্য দেখা যায়।
তামান্না নুসরাত বুবলী ২০১১ সালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নরসিংদী পৌরসভার সাবেক মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী।
তেজগাঁও থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে বুবলীকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়।
সেদিনই বুবলীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই আনোয়ার হোসেন খান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন।
এদিন শুনানি কালে বুবলীকে আদালতে হাজির করা হয়। বুবলীকে দেখতে মেয়ে-বোনসহ স্বজনরা আদালতে আসেন। ২টা ৫২ মিনিটের দিকে বুবলীকে এজলাসে তোলা হয়। এসময় তার মাথায় হেলমেট, শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর তার মাথা থেকে হেলমেট খুলে ফেলা হয়।
বুবলীকে কাঠগড়ায় দেখে মায়ের কাছে যেতে চান মেয়ে নাজা। তবে পুলিশ সদস্যরা তাকে যেতে দেননি। আদালতের দরজার একপাশে দাঁড়িয়ে থাকেন নাজা। এসময় তাকে অশ্রুসিক্ত দেখা যায়। মেয়েকে দেখে বুবলীকেও কাঁদতে দেখা যায়। তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়। আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নাজাকে বের করে দিচ্ছিলেন।
তখন নাজা বলেন, “উনি আমার আম্মু হন।”
পুলিশ সদস্যদের অবস্থানের মাঝে তিনি আদালতের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় এক পুলিশ সদস্য মজার ছলে তাকে বলেন, “মোবাইল দিয়ে ছবি তুলবেন না। ধরে তো বংশ পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। আমাকেও ধরেন।”
শুনানি চলাকালে নাজা বারবার মায়ে দিকে তাকাচ্ছিল। শুনানির সময় বুবলী মাঝে মাঝে মেয়েকে দেখছিলেন। আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা বুবলীর বোন, ভাগ্নেরা তাকে দেখছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

তিনি বলেন, “দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করছে। আমরা গণতান্ত্রিকপন্থায় যাচ্ছি, তারা সেটা বাধাগ্রস্ত করছে।
“নির্বাচন যেন না হয় এজন্য তারা কাজ করছে। উস্কানিমূলক কাজ যাতে করতে না পারে, যারা বিশৃঙ্খলা করছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিছু নেতা যারা পাশের দেশে পলাতক রয়েছে, তারা নকশা করছে আর এরা প্রতিপালন করছে। রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।”
বুবলীর পক্ষে মোর্শেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
তিনি বলেন, মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না। সন্ধিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে। আর সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ডেরর সাথে কারা কারা জড়িত তা এজাহারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি।
“তার স্বামী নরসিংদী পৌরসভার মেয়র ছিলেন। দেশের শ্রেষ্ঠ মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। বুবলী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগ করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”
দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে বুবলীকে এজলাস থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা বোনকে ধরতে যান বুবলী। তবে পুলিশ সদস্যরা তাকে টেনে নিয়ে যান। এরপর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ডেইলি স্টারের কার্যালয়ের সামনে থেকে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে দিয়ে পান্থপথ অভিমুখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হয়। জনমনে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় ২৫ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার ও চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পরদিন তেজগাঁও থানার এসআই আব্দুল কাদের ২৫ জনকে আসামি করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন।