Published : 08 Aug 2025, 12:21 AM
নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন, ব্যবহার, ভোটার তালিকাভুক্তির গুরুত্বের মতন বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি চায় ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।
এ লক্ষ্যে ইসি সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তার কাছ থেকে এ সংক্রান্ত লেখা আহ্বান করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত লেখা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তুর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা নেবে ইসি সচিবালয়।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বুধবার বলেন, “ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্ব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে লেখা আহ্বানের জন্য ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। ৩১ অগাস্টের মধ্যে কমিটি ইসি সচিবালয়ের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।”
হাবিবুর জানান, প্রতিবেদন পাওয়ার পর ইসি সচিব সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করবেন। ইসির অনুমোদন পেলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঠানো হবে।
বর্তমানে ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছেন; যারা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেয়ে থাকেন।
>>১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীরা ভোটার তালিকাভুক্ত হন।
>>আগামীতে ধীরে ধীরে সব বয়সীর এনআইডি দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। ২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা চালুর পর নিবন্ধিতদের এনআইডি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ইতোমধ্যে এনআইডি ব্যবহার আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও সরকারি-বেসরকারি সবখাতের সেবা পেতে এনআইডি লাগছে। দেশে ও প্রবাসে নাগরিকরা এনআইডি পেতে ও ভোটার তালিকাভুক্ত হতে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন।

এর মধ্যে এনআইডি ব্যবহার ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরতে কমিটি গঠন করেছে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।
কেন এ উদ্যোগ?
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব পাঠাতে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালককে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটি প্রয়োজনে যে কোন কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবে।
হাবিবুর বলেন, “ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও পরিচয়ের দলিল। জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে এনআইডি অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে।
“বর্তমান প্রজন্ম বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কিত সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। এটি শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”
তিনি বলেন, “এজন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রাথমিক ধারণা, গুরুত্ব, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং এর ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়বস্তু সংযুক্ত করা প্রয়োজন।”
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক হাবিবুর বলেন, বিষয়বস্তুর উপর গল্প, সংলাপ, নাটিকা, প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা সহজেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং বাস্তবজ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হবে।

সুফল মিলবে?
পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব প্রণয়নে কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে-
>> ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্ব প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লেখা আহ্বান;
>> প্রয়োজনে লেখক, কবি, সাহিত্যিক, ছড়াকার ও গবেষকদের কাছ থেকে এ বিষয়ে লেখা আহ্বান বিবেচনায় রাখা;
>> কমিটিকে ৩১ অগাস্টের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।
এর আগে ২০১৬ সালে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে নির্বাচনি তথ্য বিষয়ক অধ্যায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আলোর মুখ দেখেনি। তবে এবার এনআইডি ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন ইসি কর্মকর্তারা।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের এ উদ্যোগকে খুবই ইতিবাচক ও সময়োপযোগী বলে বর্ণনা করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম।
এ নির্বাচন বিশ্লেষক বলেন, “আমাদের অনেক নাগরিকই ভোটার তালিকা ও এনআইডি’র বিষয়ে জানে না অথবা অনেক ধরনের ঘাটতি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
“আগামীতে যারা এনআইডি পাবেন ও ভোটার তালিকাভুক্ত হবেন, পাঠ্যপুস্তকে শ্রেণি ভেদে এ নিয়ে পাঠ থাকলে সব শিক্ষার্থী, নাগরিকই উপকৃত হবে।”
বিলম্বে হলেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় সাধুবাদ জানান বিশ্লেষক আব্দুল আলীম।
তিনি বলেন, “কীভাবে নিবন্ধন হতে হয়, কী কী তথ্য দেওয়া প্রয়োজন, কোথায় কীভাবে সংশোধন করা যায়, কী সেবা পাওয়া যায়; ভোটার তালিকা কেন, কখন ভোটার হতে হয়, ভোটাধিকার- সব বিষয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিবেচনায় রেখে প্রস্তুত করতে হবে। আশা করি, এ উদ্যোগ কার্যকর হবে।”