শবে কদরে সৃষ্টিকর্তার কাছে পাপমুক্তি ও কল্যাণের প্রার্থনা
অতীতের ভুলত্রুটির জন্যে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের সামর্থ্য কামনা করে মোনাজাতে মশগুল হয়েছেন মুসলমানরা।
রমজান মাসের সবচেয়ে পূণ্যময় রজনী লাইলাতুল কদরে বা শবে কদরে সৃষ্টিকর্তার কাছে দুহাত তুলে পাপ মুক্তি ও জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষার ফরিয়াদ জানাচ্ছেন মুসলমানরা।
ইফতার ও তারাবির পর মসজিদে মসজিদে শবে কদর উপলক্ষে ইবাদত-বন্দেগি, বিশেষ আলোচনা ও দোয়ায় শামিল হয়েছেন তারা। বাসা-বাড়িতেও রাতভর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাবেন তারা।
এ রাতে নফল নামাজের পাশাপাশি অতীতের ভুলত্রুটির জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের সামর্থ্য কামনা করে মোনাজাতে মশগুল হয়েছেন মুসলমানরা। অনেকে নিকট স্বজনদের কবর জিয়ারত করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন।
শবে কদরের রাতে নাজিল হয়েছে কোরআন শরীফ। কোরআন-হাদিস অনুযায়ী এ রাতের তাৎপর্য অন্য যেকোনো রাতের থেকে বেশি। ফলে এ রাতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনায় ডুবে থাকেন মুসলমানরা।
শবে কদর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনাসভা ও দোয়ার আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
সভায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত তুলে ধরে ওয়াজ করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
শবে কদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমিতেও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা রোববারই জানিয়েছিল ফাউন্ডেশন।
লাইলাতুল কদর উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কদরের মহিমা যেন জাতীয় জীবনে শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনে, সেই প্রত্যাশার তুলে ধরেছেন তিনি।
বিশ্বের সব মুসলমানের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেছেন, “লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
“লাইলাতুল কদর মহিমামণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষিত করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।”
শবে কদর ও ঈদুল ফিতর ঘিরে সরকারি বেসরকারি অফিস ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিন বন্ধ থাকছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে।
