Published : 16 Mar 2026, 10:42 PM
রমজান মাসের সবচেয়ে পূণ্যময় রজনী লাইলাতুল কদরে বা শবে কদরে সৃষ্টিকর্তার কাছে দুহাত তুলে পাপ মুক্তি ও জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষার ফরিয়াদ জানাচ্ছেন মুসলমানরা।
ইফতার ও তারাবির পর মসজিদে মসজিদে শবে কদর উপলক্ষে ইবাদত-বন্দেগি, বিশেষ আলোচনা ও দোয়ায় শামিল হয়েছেন তারা। বাসা-বাড়িতেও রাতভর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাবেন তারা।
এ রাতে নফল নামাজের পাশাপাশি অতীতের ভুলত্রুটির জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের সামর্থ্য কামনা করে মোনাজাতে মশগুল হয়েছেন মুসলমানরা। অনেকে নিকট স্বজনদের কবর জিয়ারত করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন।
শবে কদরের রাতে নাজিল হয়েছে কোরআন শরীফ। কোরআন-হাদিস অনুযায়ী এ রাতের তাৎপর্য অন্য যেকোনো রাতের থেকে বেশি। ফলে এ রাতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনায় ডুবে থাকেন মুসলমানরা।
শবে কদর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনাসভা ও দোয়ার আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
সভায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত তুলে ধরে ওয়াজ করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
শবে কদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমিতেও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা রোববারই জানিয়েছিল ফাউন্ডেশন।
লাইলাতুল কদর উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কদরের মহিমা যেন জাতীয় জীবনে শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনে, সেই প্রত্যাশার তুলে ধরেছেন তিনি।
বিশ্বের সব মুসলমানের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেছেন, “লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
“লাইলাতুল কদর মহিমামণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষিত করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।”
শবে কদর ও ঈদুল ফিতর ঘিরে সরকারি বেসরকারি অফিস ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিন বন্ধ থাকছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে।