Published : 06 May 2026, 09:23 PM
দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর ‘ধীর গতি’ বড় বাধা বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিনিয়োগকারীরা যে গতিতে বিভিন্ন বিষয়ের সমাধান করতে চায়, তা না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে যান বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘সিওএমপিএএসএস ডায়ালগ, চ্যাপ্টার-১: দ্য ওয়েস্টার্ন ক্যালিব্রেশন’ শীর্ষক এক সংলাপ শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক যে পরিবর্তন হয়েছে, এর ফলে আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিক্সের (সামষ্টিক অর্থনীতি) অবস্থাটা কী আছে… সামগ্রিকভাবে আমরা অর্থনীতিকে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছি, সেগুলো ভাববার সময় এসেছে।
ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর) এ সংলাপের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দেশে বিনিয়োগের সমস্যা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশে যে বিনিয়োগের সমস্যা রয়েছে, এখানে সরকারের যে সংস্থাগুলো আছে, সেগুলো খুব ধীরগতিতে চলে। তারা (বিনিয়োগকারী) যে গতিতে কোনো ইস্যুর সমাধান চান, তা পান না। এতে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়। তারা হতাশ হয়ে যান। এটা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটা অন্যতম প্রধান সমস্যা। আমরা বলেছি যে, চেষ্টা করছি সেগুলোকে (ধীর গতি) ঠিক করে নিয়ে আসার জন্য।”
দেশে ব্যবসার পরিবেশ খুব একটা ‘ভালো না’ স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা বলেছি যে, এটা ভালো করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি প্রতিদিনই এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, কথা বলছেন। প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়কে তিনি অতি দ্রুত কাজ করানোর জন্য চেষ্টা করছেন।”
জ্বালানি খাতের সমস্যা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হল জ্বালানি খাতে। আপনারা সবাই জানেন যে, আমরা রিনিউভেল অ্যানার্জির (নবায়নযোগ্য শক্তি) দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা সোলার অ্যানার্জির (সৌর শক্তি) দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
“একইসঙ্গে অনশোর এবং অফশোর এক্সপ্লোরেশন, গ্যাস ও তেল উত্তোলন করার যে কাজগুলো, সেগুলো আমরা শুরু করেছি। তিন মাসের মধ্যেই আমরা সেটাতে টেন্ডারে যাব বলে আশা করছি।”
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করছি যে, একটা স্থিতিশীলতা যদি নিয়ে আসতে পারি দেশের মধ্যে, তাহলে অবশ্যই আমাদের যে লক্ষ্য আছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা, দেশে ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা… এই কাজগুলোতে এগিয়ে যেতে পারব।”
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচিগুলো জনগণের মধ্যে ‘যথেষ্ট আশার সঞ্চার করেছে’ বলে তার ভাষ্য।
মন্ত্রীর দাবি, দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় এখন অনেক ‘ইতিবাচক’। এতে দেশে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও গবেষকরা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।