Published : 31 Dec 2023, 10:03 PM
বিএনপির ভোট বর্জনের আন্দোলনের মধ্যে এবার সচেতনতার বার্তায় নতুনত্ব এনেছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেওয়া যে দণ্ডনীয় অপরাধ, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে নাগরিকদের মোবাইল ফোনে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায়।
অতীতের নির্বাচনগুলোতে কমিশনের একটি বহুল ব্যবহৃত স্লোগান ছিল- ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। কিন্তু নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে সাম্প্রতিক প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮১ অনুচ্ছেদের ১ দফায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন, যদি ভোটকেন্দ্র থেকে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টকে বিতাড়িত করেন এবং ভোট পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদেরকে তাদের অনুপস্থিতিতে নির্বাচন কার্য চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন।
৮২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- কোনো ব্যক্তি সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন, যদি তিনি- ভোট দেওয়ার সময় ভোটারকে বাধা দেয় বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
দশম সংসদ নির্বাচনের মতই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।
৭ জানুয়ারির ভোট সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২৭টি দল যেখানে প্রচারে ব্যস্ত, বিএনপি ও সমমনারা তখন অসহযোগের ডাক দিয়ে ভোট বর্জনের আহ্বানে লিফলেট বিতরণ করছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক রোববারও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এই অবৈধ সরকারের অধীনে একদলীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে-পাড়া-মহল্লায় আমরা লিফলেট বিতরণ করে যে সাড়া পেয়েছি, তাতে জনগণ বলেছে, ৭ জানুয়ারি ‘আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে, সন্তান নিয়ে আমরা ঘরে থাকব, ভোট কেন্দ্রে যাবো না, ভোটে অংশগ্রহণ করব না’।”
এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে যে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের কথাতেও সে বিষয়টি এসেছে।
রোববার নির্বাহী হাকিমদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “সাধারণ নির্বাচন খুব উৎসবমুখর পরিবেশে হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটা অংশ নির্বাচন বর্জন করছে। ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করা হয়েছে, সহিংসতা হয়েছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বচনে কিছু বিতর্ক হয়েছে, সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না।“
এবারের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাচন আমাদের দ্বারপ্রান্তে। কুসুমাস্তীর্ণ পথে আমরা এগোচ্ছি না। কিছুদিন ধরে বিতর্ক চলছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে, নির্বাচন প্রশ্নে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে, সহিংসতাও হয়েছে। আমাদের বেশি মনোযোগী হতে হবে আকেরটি কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা বাকবিতণ্ডা আছে।”
দলীয় সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচনের প্রমাণ দেওয়ারও তাগিদ দেন সিইসি। তিনি বলেন, “যে কোনো মূল্যে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে একটা সরকার থাকা অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ভালো নির্বাচনের আয়োজন করতে পারে। ইসিকে বলা হয় ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডি। সরকার বাধ্য ইসিকে সহায়তা করতে। সরকারের সহায়তা ছাড়া আমরাও নির্বাচন করতে পারি না।”
ভোটার আনতে যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থীরা
নির্বাচনে কেন্দ্রে ভোটার আনতে প্রার্থী বা এজেন্ট যে কোনো যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে ইসি।
রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপ-সচিব মো. আতিয়ার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট এবং সমর্থকরা যাতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য কোনো প্রকার যানবাহন ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আচরণ বিধিমালা মেনে চলার জন্য প্রার্থীদের করণীয় ও বর্জনীয় দিকগুলো উল্লেখ করে সতর্ক করে দিতে হবে। তা না হলে আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজারের বেশি। আর প্রার্থী রয়েছে প্রায় ১৯৪৩ জনের মত।
পুরানো খবর:
ভোটের পথ ‘কুসুমাস্তীর্ণ’ নয়, উপলব্ধি সিইসিরপুরানো খবর:
ভোটারদের বাধা বা হুমকি দিলে শাস্তি: ইসি রাশেদাপুরানো খবর:
ভোটে কেউ বাধা দিলে ‘কঠোর হস্তে’ দমন: র্যাব ডিজি