১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

লুটের টাকায় টিভি-ফ্রিজ কেনেন নাইম, দাবি তদন্ত কর্মকর্তার

“নাইম হামলার আগেই এগুলো কিনেছেন; সময় স্বল্পতার কারণে কাগজপত্র জমা দিতে পারছি না,'' বলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আযম।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Dec 2025, 08:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:22 PM

প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার সময় ‘লুট করা অর্থ দিয়ে’ মামলার এক আসামি টেলিভিশন ও রেফ্রিজারেটর কিনেছেন বলে আদালতে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তবে নাইম ইসলাম নামের ওই আসামি এবং তার আইনজীবী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার আগেই পণ্য দুটি কেনা হয়েছিল।  

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা হয় ও লুটপাট চালায় একদল মানুষ। 

এ ঘটনায় রোববার রাতে ঢাকার তেজগাঁও থানায় নাশকতা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে  ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে প্রথম আলো। 

মামলার পর ১৫ জনকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক আবদুল হান্নান। 

আবেদনে নাইমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “তার কাছ থেকে লুট করা নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং লুণ্ঠিত অর্থ দিয়ে কেনা একটি ফ্রিজ ও একটি টেলিভিশন জব্দ করা হয়েছে।”

মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আসামিদের জামিনের আবেদনের উপর শুনানি হয়।

আসামি বিপ্লব ও হাসানের পক্ষে আইনজীবী হোসেন আহামাদ জামিন চেয়ে শুনানিতে বলেন, "মিডিয়ার উপর হামলার নিন্দা জানাই। তবে তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত না হয়েই আসামিদের তুলে নিয়ে আসছেন; গণহারে আসামি ধরেছেন। আমরাও বিচারপ্রার্থী। আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। জামিনের প্রার্থনা করছি।"

আসামিপক্ষের আইনজীবী এমদাদউল্লাহ মোল্লাহ ও মো.আব্দুল্লাহ আযমও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। 

নাইম ইসলামের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আযম বলেন, "বলা হচ্ছে লুণ্ঠনের টাকায় তিনি টিভি-ফ্রিজ কিনেছেন; এটা সত্য নয়। তিনি ঘটনার আগেই টিভি-ফ্রিজ কিনেছেন। সময় স্বল্পতার কারণে টিভি-ফ্রিজের কাগজপত্র দাখিল করতে পারছি না।''

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, "মব সৃষ্টি করে আসামিরা প্রথম আলো পত্রিকায় হামলা চালিয়েছে। তদন্ত চলছে। আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছি।"

এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামিদের কেউ কেউ বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, "স্যার, আমাদের কোনো অপরাধ নেই। আমরা কিছু জানি না।”

কয়েকজনকে কাঁদতেও দেখা যায়।

পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এজলাস কক্ষ থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে নাইমের কাছে টিভি-ফ্রিজের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, "আগেই টিভি-ফ্রিজ কিনেছি।"