Published : 05 Oct 2025, 11:20 PM
ভোটে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অনিয়মকারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের শাস্তি বাড়িয়ে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয়েছে;
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে জারি হয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশও।
রোববার এ দুটি অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১৮ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশ দুটি অনুমোদন পায়।
এর মধ্যে ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ করা হয় ২০০৯ সালের আইন সংশোধন করে।
১৯৯১ সালের আইন সংশোধনের মাধ্যমে করা হয় ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ’।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের শাস্তি, সরকার ও ইসির ভিন্নমতে প্রাধান্য ইসির
‘নির্বাচন কর্মকর্তাদের’ মধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অধ্যাদেশে। সেই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা, শাস্তির পরিধি ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাশাপাশি সরকার ও ইসির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রাধান্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে নির্বাচন কর্মকর্তা বলতে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব বা কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তি বা নির্বাচন পরিচালনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বোঝানো হয়েছে।
ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাও (যেমন- প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার বা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য) নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য হবে।
কোনো কর্মকর্তা নির্বাচনসংক্রান্ত আদেশ বা নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে বা অস্বীকৃতি জানালে ‘অসদাচরণ’ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
‘অসদাচরণ’ হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করতে পারবে। বাধ্যতামূলক অবসরেও পাঠাতনো যাবে। পদাবনতি করা, পদোন্নতি না দেওয়া কিংবা দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সুযোগও রাখা হয়েছে।
অসদাচরণ করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২ মাসের জন্য সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ দিতে পারবেন।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কমিশনের কাছে যদি প্রতীয়মান হয়, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি কর্তব্যে অবহেলা করেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কমিশন প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
বিধান লঙ্ঘন করলে তা হবে একটি অপরাধ এবং এজন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সবশেষ ২০২২ সালের অক্টোবরে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনের পর ভোটে অনিয়মে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি তৎকালীন ইসি। এবার আইন সংশোধনের পর আগামীতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
ইসি সার্ভিস চালুর অধ্যাদেশ
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ নামে আলাদা একটি সার্ভিস রাখার বিধান করে জারি হয় ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’।
এর মধ্য দিয়ে ইসি কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। কারণ সংশোধিত আইন কার্যকর হলে ইসি সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তারাও পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার সুযোগ পাবেন।
ইসি কর্মকর্তাদের সচিব হওয়ার পথ খুলছে
গাইবান্ধায় অনিয়ম জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে ইসির চিঠি
গাইবান্ধার রিটার্নিং অফিসারসহ শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ইসি
গাইবান্ধায় অনিয়মকারীদের শাস্তির অগ্রগতি কী, জানতে চিঠি দেবে ইসি