Published : 06 Jun 2026, 03:29 PM
দখল আর দূষণের কারণে ঢাকাকে আজকাল আর ‘বাসযোগ্য মনে হয় না’ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “ঢাকা মহানগর আমাদের বাস করার জায়গা। কিন্তু আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে, আমি ঢাকা শহরে থাকব না। আমি আমার দেশের যে শহর, সেই শহরে গিয়ে থাকব। কারণটা হচ্ছে যে, এটা বাসযোগ্য মনে হয় না। আপনার ঘর থেকে বেরোলেই যে আপনার নিঃশ্বাস নেওয়া, যে অক্সিজেনটা যেটা আসে সেটা পলিউটেড।”
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা বিষয়ক নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘দক্ষিণের জানালা’—এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি যখন কলেজে পড়ি—ঢাকা কলেজে, তখন আমরা প্রায়ই আসতাম আপনার বুড়িগঙ্গাতে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। এখন সেই বুড়িগঙ্গার কাছেও যাওয়া যায় না। এত ‘পলিউটেড’!
“এত দুর্গন্ধ এবং আমার কাছে মনে হয় যে ঢাকা শহরের সব রোগগুলোর মূলে বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা, বুড়িগঙ্গার পানি।”
তুরাগে ও শীতলক্ষ্যাতেও প্রায় একই অবস্থা শুরু হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়? এই জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এই উদ্যোগের সঙ্গে কিন্তু একই সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে, যেটাকে আমরা বলি যে আপনার, অবকাঠামোগত পরিবর্তনগুলোকে আরও পরিকল্পনামাফিক করতে হবে, পরিকল্পনা সঠিক নিতে হবে।”
নতুন এই নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটা বাসযোগ্য শহর তৈরি করবার, নগর তৈরি করবার আন্দোলন। নিঃসন্দেহে এই আন্দোলন আমাদের নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে আমি সবচেয়ে বেশি যেটা মনে করি, আমার কাছে বারবার মনে হয়, আসলে শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই কি হবে?”
তিনি বলেন, “যারা পলিসি তৈরি করছেন, ঢাকা শাসন করছেন, যারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছেন, উন্নয়ন করছেন, প্রজেক্ট তৈরি করছেন, প্রজেক্টের পর প্রজেক্ট, হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হচ্ছে এই ঢাকা নগরে।
“কিন্তু মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে? নাগরিকরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেই বিষয়গুলো ‘ইভ্যালুয়েট’ করা দরকার এবং সেই বিষয়গুলোকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার।”
পরে মন্ত্রী নতুন এই প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ডিএসসিসি বলছে, নতুন দক্ষিণের জানালা ঢাকার নাগরিকদের অভিজ্ঞতা, বিশেষজ্ঞের জ্ঞান আর প্রশাসনের পরিকল্পনা মিশেলে এক সমন্বিত উদ্যোগ।
এখানে নাগরিকরা বলবেন তাদের কথা, বিশেষজ্ঞরা দেবেন তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ; যা দিয়ে তৈরি হবে ভবিষ্যৎ ঢাকা দক্ষিণের উন্নয়ন রোডম্যাপ।

চলমান এই উদ্যোগে থাকবে খাতভিত্তিক সেমিনার, নাগরিক মতামত, টাউন হল মিটিং, ডিজিটাল প্রচারণা ও একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ব্লু-প্রিন্ট।
এ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “নতুন এক সেবাদ্বার খুলে দিতে এসেছে এই প্ল্যাটফর্ম। ভুলে গেলে চলবে না, নাগরিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।”
ঢাকা দক্ষিণকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “এই শহর যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনি চ্যালেঞ্জপূর্ণ। যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ু দূষণ, পয়ঃনিষ্কাশন সংকট, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা আমাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা।”
ডিএসসিসি প্রশাসকের মতে, সমস্যার চেয়ে বড় হল সমাধানের ইচ্ছাশক্তি এবং সমন্বিত উদ্যোগ, দক্ষিণের জানালা সেই সমন্বিত উদ্যোগেরই একটি বাস্তব রূপ।
“এখানে নাগরিক, বিশেষজ্ঞ গবেষক, নীতি নির্ধারকরা একসঙ্গে বসে সমস্যা চিহ্নিত করবেন, বিশ্লেষণ করবেন এবং তথ্যভিত্তিক সমাধান প্রস্তাব তৈরি করবেন খাতভিত্তিক সেমিনার, টাউন হল মিটিং, ডিজিটাল প্লাটফর্ম এবং নাগরিক কমিটির মাধ্যমে।”
একটি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন রোডম্যাপ গড়ে তুলতে চান তুলে ধরে আবদুস সালাম বালেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র আলোচনা নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করা। এমন একটি শহর গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিক শুধু সুবিধাভোগী নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশীদার।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুন নূর তুষার।