Published : 12 Oct 2025, 11:15 PM
ডিসেম্বরে একুশে বইমেলা করাসহ তিনটি প্রস্তাব উঠে এসেছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির এক মতবিনিময় সভায়।
রোববার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে হয় এ সভা হয়। শিরোনাম ছিল, ‘বইমেলা অনিশ্চয়তার সময়ে: লেখক–পাঠক–প্রকাশক মতবিনিময় সভা’।
এতে প্রকাশক, লেখক, পাঠকেরা বক্তব্য দেন। ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলা আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কেউ কেউ।
সমিতির বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি আবু বাশার ফিরোজ শেখ বলেন, “নির্বাচনের পর মেলা করার প্রস্তাব বাস্তবতার সাংঘর্ষিক। কারণ, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন, এরপর রোজা ও ঈদুল ফিতর। এ কারণে এপ্রিলের আগে মেলা আয়োজন কার্যত অসম্ভব।”
“অন্যদিকে এপ্রিলের তীব্র গরম ও পরবর্তী ঝড়-বৃষ্টির সময়ে বিশাল মেলার কাঠামো নিরাপদে নির্মাণ ও পরিচালনাও বাস্তবসম্মত নয়।”
সভায় কেউ কেউ বলেন, বইমেলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতীক। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং জাতির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্য। মেলা বাধাগ্রস্ত হলে তা জাতির সাংস্কৃতিক পরাজয়ের শামিল হবে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি প্রস্তাব করা হয়। এর একটি হলো, বইমেলা আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১৭ জানুয়ারির মধ্যে করতে হবে।
সমিতি তাদের প্রস্তাবে বলেছে, সরকার ও বাংলা একাডেমিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেন প্রকাশনা শিল্প, লেখক ও পাঠক সবাই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেন।
নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সময়মতো মেলা আয়োজনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রকাশকরা।
সভা শেষে উপস্থিত লেখক–পাঠক–প্রকাশক ও বাপুসের বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা বিশ্বাস করি, বইমেলা কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিলম্বের বিষয় নয়; এটি জাতির মননের উৎসব। আমরা সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই— অমর একুশে বইমেলা যেন সময়মতো, নিরাপদে ও যথাযথ মর্যাদায় হয়।”
সভায় অন্যদের বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি গোলাম এলাহী জায়েদ, সঞ্চিতার প্রকাশক মনিরুজ্জামান খান, লেখক শিবলী আজাদ ও পুলীন বকসী।
উন্মুক্ত আলোচনায় কথা বলেন শব্দশৈলী প্রকাশক ইফতেখার আমিন, স্বরে অ’র প্রকাশক আবু বকর সিদ্দিক রাজু।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেটা মাথায় রেখে এবার বইমেলা এগিয়ে ডিসেম্বরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলা একাডেমি।
কিন্তু ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই সিদ্ধান্ত 'স্থগিত' করার কথা জানায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
একাডেমি সেদিন বলেছিন, প্রকাশক ও অন্য অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই তারিখ এখনও আসেনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃংখলা সংক্রান্ত এক সভায় বইমেলা নির্বাচনের পরে করার পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়।
সেই সিদ্ধান্ত 'প্রস্তাব আকারে' সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলা একাডেমিকে জানানো হয়। সেই প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে মেলার পূর্বনির্ধারিত তারিখ 'স্থগিত' ঘোষণা করল বাংলা একাডেমি।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এক সভায় পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের মতামতের ভিত্তিতে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বইমেলার তারিখ নির্ধারণ করেছিল বইমেলা।
আগের খবর
একুশে বইমেলা না হলে 'ব্যর্থ হবে সরকার': বাপুস
'নির্বাচনের আগে হচ্ছে না' একুশে বইমেলা
ফেব্রুয়ারিতেই একুশে বইমেলা চায় 'গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য'
একুশে বইমেলা এগিয়ে এল ডিসেম্বরে
ডিসেম্বরে একুশে বইমেলা অনিশ্চিত?
এগিয়ে আনা বইমেলার জন্য প্রকাশকেরা কতটা প্রস্তুত?