Published : 09 Oct 2025, 02:09 AM
সরকার তাড়াহুড়া করে সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে দাবি করে এ নীতিমালার বাস্তবায়ন পেছানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আসন্ন বোরো মৌসুমে এ নীতিমালা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত ডিলারদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং এর কারণে দেশে সারের সংকট প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
বুধবার ঢাকার ধানমন্ডির সীমা ব্লোসম টাওয়ারে 'সম্প্রতি ঘোষিত সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ এবং বেসরকারি পর্যায়ে নন-ইউরিয়া সার আমদানির ভর্তুকি প্রদান পদ্ধতি-২০১৫ সংক্রান্ত’ শিরোনামে এক মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সাবেক নেতারা।
বর্তমানে এই সমিতিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ফলে আগের কমিটি কার্যকর নেই।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, “এ নীতিমালা বাস্তবায়ন পেছানোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে সার ডিলারদের কমিশন বাড়িয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।”
কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সারের ডিলার নিয়োগের নতুন নীতিমালা করে ইউনিয়নভিত্তিক নতুন ডিলার নিয়োগ করা হবে, যা এই সময়ের জন্য বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নয়। কারণ বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী একজন ডিলারকে একটি গুদাম ও একটি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু নতুন নীতিমালা অনুযায়ী একজন ডিলারকে ৩টি বিক্রয়কেন্দ্র এবং একটি গুদাম পরিচালনা করতে হবে। এতে করে ডিলারদের পরিচালনা ব্যয় তিন গুণ বেড়ে যাবে। কিন্তু কমিশন আগের মতো প্রতি কেজিতে ২ টাকা থাকবে। এতে করে সার সরবরাহে সংকট তৈরি হতে পারে।”
১৯৯৫ সালে ডিলারশিপ প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি উপজেলায় এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালে জারি করা ডিলার নিয়োগ ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নের ডিলাররা সারাদেশে সার সরবরাহ করে আসছে। দেশে ১০ হাজার ৮০০ জন ডিলার এবং প্রায় ৪৫ হাজার খুচরা বিক্রেতা রয়েছে।
বিএফএর সাবেক এই সভাপতি বলেন, “নীতিমালা পরিবর্তন আনার আগে অংশীজনের সাথে সভা করা ও মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত তথ্য নেওয়া দরকার ছিল। সেটা করা হয়নি। এ ধরনের নীতিমালার বাস্তবায়ন এপ্রিল-মে মাসের পর অর্থাৎ লিন পিরিয়ডে করা উচিত। অংশীজনদের মতামত নিয়ে সঠিক সময়ে এ নীতিমালা করা হোক। তাড়াহুড়া করে কিছু না করে সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে বাস্তবায়ণ করার দাবি জানাচ্ছি। কারণ মাঠ পর্যায়ে সার সরবরাহ অস্থিতিশীল এবং সংকট হলে এর দায় সরকারের উপরই বর্তাবে।”
কিছু এলাকায় কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএফএ এর সাবেক পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, “চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পর্যাপ্ত নাই বলেই দেশে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই আবার ভরা মৌসুমে নীতিমালা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা ভরা মৌসুমের পর বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
বিএফএর সাবেক সভাপতি ফাইজুর রহমান বকুল বলেন, “আমরা সরকারের সঙ্গেই কাজ করছি এবং করতে চাই। এর মধ্যে বৈষম্য হোক সেটা আমরা চাই না। বেসরকারি আমদানি ও সরবরাহে যাতে স্বচ্ছতা থাকে, সেটা আমরা চাই।”