Published : 27 Aug 2025, 12:08 AM
শ্রেণিকক্ষ থেকে হিজাব পরা ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ফজিলাতুন নাহার নামের ওই শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটির বসুন্ধরা শাখায় কর্মরত।
মঙ্গলবার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সই করা নোটিসে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।
প্রভাতী শাখার ওই সহকারী শিক্ষক তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ’সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন।
সাময়িক বরখাস্তের নোটিসে বলা হয়, অভিযোগ ওঠার পর অ্যাডহক কমিটির সিদ্ধান্তে ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বসুন্ধরা প্রভাতি শাখার ষষ্ঠ শ্রেণির একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে ২২ জন শিক্ষার্থীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাকে চাকরি থেকে কেন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না, তার কারণ সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতেও বলা হয়েছে নোটিসে।
অভিযোগের বিষয়ে ফজিলাতুন নাহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি এই কাজটা করি নাই। আর ওই ক্লাসে ২২ জন মেয়ে হিজাব পরে না, নয় বা ১১ জন পরে। আমি মেয়েদের বলেছি তোমরা হিজাব পড়ে স্কুলে আসবা।“
হিজাব কীভাবে পরতে হবে সেটির নিয়মও ছাত্রীদের শিখিয়েছেন বলে দাবি ওই শিক্ষকের।
দেড় দশকের বেশি সময় প্রতিষ্ঠানটির বসুন্ধরা শাখায় কর্মরত এই সহকারী শিক্ষক সেদিনের ঘটনার বিষয়ে বলেন, "আমি যখন ক্লাসে গেলাম, যেয়ে দেখি ভলান্টিয়ারেরা বাচ্চাদের চেক করছে, পোশাক ঠিক আছে কি না, নখ বড় কি না, চুল বাধা ঠিক আছে কি না।
"তখন আমি ওদের (ভলান্টিয়ার) বললাম, তোমরা সারাদিন কি করলা? বলে আপা আমরা সময় পাইনি। তখন বললাম, তাই বলে লাস্ট পিরিয়ডে চেক করবা? তা ঠিক আছে যাও, তোমাদের যা যা কাজ তোমরা বাইরে নিয়ে যাও এদের, বাইরে নিয়ে তোমাদের দায়িত্ব পালন কর, এটা বলছি, মেয়েদের বেরও করে দেইনি।"
এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমকে মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বুধবার সকালে স্কুলের বসুন্ধরা শাখার সামনে মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।