Published : 24 May 2026, 11:26 PM
দিনের অর্ধেক সময় তীব্র গরমের পর ঝুম বৃষ্টি নামায় হতাশ হয়েছেন পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জের অস্থায়ী হাটে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারীরা।
ক্রেতা যারা এসেছিলেন বৃষ্টি শুরু হতেই তারা চলে গেছেন; কেউ কেউ দরদাম করলেও গরু কেনেনি।
রোববার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা হাটে ঘুরলেও কোনো পশু বিক্রি হতে দেখা যায়নি।
ব্যাপারীরা আশা করছেন, সোমবার থেকে পশু কেনাবেচনা শুরু হবে।

পুরান ঢাকার চকবাজার মোড়ের ভিড়–হট্টগোল ঠেলে এগিয়ে গেলে তিন রাস্তার একটি মোড় পড়ে। সেখান থেকে ডান দিক ধরে সোজা গেলে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির মাঠ, যেখানে বসেছে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট।
গরু কিনতে আসা কয়েকজন কথা বলে জানা যায়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার গরুর দাম বাড়তি। তারা বলছেন, আগের বছর যে গরু এক লাখে পাওয়া গেছে, এবার সে রকম গরুর দাম ১ লাখ ২০ হাজার হাঁকা হচ্ছে।
পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি থেকে কিশোর ছেলেকে নিয়ে এসেছেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “দরদাম কেমন দেখতে আসছি। মনে হচ্ছে গত বছরের থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা সব আকারের গরুতেই বেশি দিয়ে নিতে হবে। এবার দাম বেশি পড়বে বলে মনে হচ্ছে।”
পুরান ঢাকার ইসলামবাগের বাসিন্দা আহমদ হোসেনও এসেছেন গরুর পছন্দ করতে।
বৃষ্টির কারণে আটকা পড়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গরু দেখতে আসছি, বৃষ্টিতে আর দেখতে পারলাম কই। এখন কাদার মধ্যে আর ভেতরে ঢুকব না, চলে যাব।”
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে রহমতগঞ্জের এই হাটে মাঝারি আকারের ১৮টি গরু নিয়ে এসেছেন খন্দকার মাসুদ।

তিনি বলেন, “তিন দিন হল এখানে এসেছি, প্রায় ৭/৮ বছর ধরে ঢাকায় গরু নিয়ে আসি। আজকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বিক্রি নেই। বৃষ্টির কারণে ক্রেতা আসলেও চলে গেছে।”
মেহেরপুরের গাংনী থেকে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন জাকির হোসেন নামের একজন ব্যাপারী।
তিনি বলেন, “সারাদিন যে আবহাওয়া ছিল, ভেবেছিলাম আজ সন্ধ্যার পর পুরোদমে গরু বেচাকেনা শুরু হবে। কিন্তু দুপুরের পর থেকে বৃষ্টির কারণে ক্রেতারা হাটে আসেননি, যারা এসেছেন তারাও দরদাম করছেন, কিন্তু নেওয়ার মতো লোকজন নেই।”
“তবে আগামীকাল থেকে বেচাবিক্রি শুরু হবে,” আশা প্রকাশ করলেন জাকির।
একই সুরে বললেন পাবনা থেকে নয়টি বড় আকারের গরু নিয়ে আসা ইমরান আহমেদ।

তিনি বলেন, “কোনো ক্রেতার দেখা নাই, কেউ কেউ আসছেন দাম জিজ্ঞাসা করছেন, তবে তারা কিনতে আসেননি। সন্ধ্যার পর কিছু ক্রেতা আসবে মনে করেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে আজ আর হচ্ছে না। তবে আশা করি, আগামীকাল থেকে ক্রেতা আসবে এবং পুরোদমে হাট জমে উঠবে।”
রহমতগঞ্জ ক্লাব গরুর হাটের ১ নম্বর কাউন্টারে থাকা আব্দুর রহমান বলেন, “সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোনো গরু বিক্রি হয়নি। বৃষ্টির কারণে ক্রেতা নেই। কালকে সকাল থেকে বিক্রি শুরু হবে।”
রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি ক্লাবের সভাপতি ও গরুর হাটের ইজারাদার টিপু সুলতান বলেন, “আজকে কোনো বিক্রি নাই। কাল সকাল থেকে শুরু হবে আশা করছি। এবার গরুর হাটের নিরাপত্তা ও ক্রেতা বিক্রেতাদের কোনো ধরনের বাড়তি ঝামেলা যাতে না হয়, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”