Published : 06 Apr 2026, 02:42 PM
ধর্ম অবমাননার একটি মামলায় বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।
সোমবার বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আসামির আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, “মুফতি মো. আব্দুল্লাহর দায়ের করা মামলাটি জামিনযোগ্য ধারায় হওয়ার কারণে আদালত শুনানি শেষে আবুল সরকারকে জামিন দিয়েছেন।”
গত বছরের ২০ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরদিন ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম আবদুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই জামিন আদেশের পর আবুল সরকারের কারামুক্তি মিলবে কি না—এমন প্রশ্নে আইনজীবী সজল বলেন, “আমার কাছে একটি মামলা এসেছে, সেটার আজ জামিন হয়েছে। পাশাপাশি আদালত রুলও জারি করেছেন।
“উনার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে মুক্তিতে কোনো বাধা নেই।"
তবে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আরেকটি মামলা রয়েছে।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াসহ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান।
বাদী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোট্রমা সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক।
ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, আবুল সরকার মানিকগঞ্জের একটি মেলার মঞ্চে পরিবেশিত গানে আল্লাহকে নিয়ে অশ্রদ্ধা ও কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা বাদীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
মামলায় দণ্ডবিধির ২৯৫ এবং ২৯৫ (ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের পারতিল্লীর বাসিন্দা আবুল সরকার এলাকায় বাউলশিল্পী ‘ছোট আবুল সরকার’ নামে পরিচিত। তিনি কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় গান ‘কথা কইয়ো না’-এর কণ্ঠশিল্পী আলেয়া বেগমের স্বামী।
বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার ও মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী ও অনুসারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। তার মুক্তির দাবিতে গত ২৫ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিল ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’।