ঢাকায় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এই সফরে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 August 2022, 01:01 PM
Updated : 6 August 2022, 01:01 PM

দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তার এই সফরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি নতুন কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান ওয়াং ই।

সেখানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। এসময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি জাদুঘরটি ঘুরে দেখেন। পরে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় তার সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন দেশের বাইরে থাকায় নৈশভোজের আয়োজক হিসাবে থাকছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে পাঁচ থেকে সাতটি সমঝোতা স্মারক এবং চুক্তি সই হতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এর মধ্যে রয়েছে পিরোজপুরে কচা নদীর উপর নির্মিত অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু হস্তান্তর চুক্তি। পিরোজপুর থেকে খুলনার পথে চীনের অর্থায়নে নির্মিত এ সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়ে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি চুক্তি হবে। চীনের দেওয়া ঋণে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এ চুক্তি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় চুক্তি হতে পারে। যার মধ্যে হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার দুটি দিকই থাকবে।”

কর্মকর্তারা জানান, এর বাইরে সাংস্কৃতিক বিনিময়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা সংক্রান্ত বিনিময় এবং দুদেশের টেলিভিশনের মধ্যে অনুষ্ঠান বিনিময়ে আলাদা তিনটি সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, সেসবের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

তবে চীনের কাছ থেকে নতুন করে ঋণ নেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুন করে কোনো ঋণ নেওয়া হবে, এমন ব্যাপার এবারে নেই।”

গত ২৪ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাতে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ৫ থেকে ৬ অগাস্ট এ সফর আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ওই সময়ে আসিয়ান আঞ্চলিক সম্মেলনে থাকবেন বলে সফর পেছানোর প্রস্তাব দেয় ঢাকা। এরপর আলোচনার ভিত্তিতে সফর একদিন পিছিয়ে ৬ ও ৭ অগাস্ট করা হয়।

শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং জানান, ৬ থেকে ৮ অগাস্ট বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়া সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে মাত্র ১৩ দিনের প্রস্তুতিতে ঢাকা সফরে আসলেন ওয়াং ই। ক্যালেন্ডারের হিসাবে দুদিন হলেও ঘন্টার হিসাবে তার সফর ২৪ ঘন্টার কিছু কম।

ঢাকা সফর শেষে রোববার দুপুরের আগেই মঙ্গোলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন ওয়াং ই। এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ তিনি ঢাকা সফর করেন।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং এই সফরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা আশা করি, এই সফর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলো বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করবে। পরস্পরের জন্য লাভজনক সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে এবং সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সময় বিমানবন্দরে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ঢাকা চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক