Published : 07 Aug 2025, 05:51 PM
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কে বি কনভেনশন হলে এএসপি পরিচয়ে অন্য কেউ ঢুকেছে বলে আদালতে দাবি করেছেন সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন। তার ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে এখন দোষ চাপানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে রিমান্ড আবেদন শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।
মেজর সাদিকুলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে তদন্ত আদালত গঠন করেছে সেনাবাহিনী। তার স্ত্রী সুমাইয়া পুলিশের এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলে এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ২ অগাস্ট পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এই নামে তাদের কোনো এএসপি নেই। পরে বুধবার সুমাইয়াকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আজিজুল হক দিদার, কাইয়ুম হোসেন নয়ন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
আজিজুল হক দিদার বলেন, “বিদেশি সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে আজকের সরকারকে উৎখাত করার জন্য ভাটারায় একটি কনভেনশন হলে একত্রিত হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দুই হাজার ছাত্র-জনতা প্রাণ হারিয়েছে। কয়েক হাজার জন আহত হয়েছেন। এখনো অনেকে চিকিৎসাধীন।
“তারা চুপচাপ বসে নেই। বিদেশি সংস্থার ইন্ধনে (নামটা বলব না) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ সবাই মিলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। ‘অপারেশন ঢাকা ব্লক’ এর নামে ৩০০/৪০০ জন মিলে এএসপি পরিচয়ে হল ভাড়া নেন।”
এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সুমাইয়া জাফরিন বলেন, “আমি এ ধরনের পরিচয়ে ভাড়া নেইনি।”
কৌঁসুলি কাইয়ুম হোসেন নয়ন বলেন, “সরকারকে ব্যর্থ করতে, জোরালো আন্দোলন করতে নেতাকর্মী সংঘটিত করে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে। এ আসামি এবং তার স্বামী বিপদগামী সেনাবাহিনীর মেজর মিলে এ চক্রান্ত করে। রাষ্ট্র এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল এবং সচেতন।
“বিপদগামী এ সেনা সদস্যের নেতৃত্বে পলায়নকৃত হাসিনা দিল্লিতে বসে যে প্রেসক্রিপশন দেন, ডিবির সাবেক প্রধানের নামে অপারেশন ঢাকা ব্লকের নামে ৪০০/৫০০ জনকে একত্র করে। ৫ অগাস্ট এখনো যায়নি, রক্তের দাগ শুকায়নি। বিপদগামী সেনা সদস্যরা কীভাবে মিটিং করার সাহস পেল?

“শাহবাগে গণজমায়েত করে সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করছিল তারা। তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।”
সুমাইয়া জাফরিনের পক্ষে তার আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, “বাদী মামলায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এ ঘটনার সাথে কে বা কারা জড়িত। সরকার এতো দুর্বল না, বৈঠক করলো আর উৎখাত হয়ে গেল। মামলার এজাহারে তার নাম নাই। ১১ জুলাই মামলা আর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ অগাস্ট। সন্ধিগ্ধ আসামি। কোনো আসামি ১৬৪, ১৬১-এ নাম বলেনি।
“কোনো আসামি রিমান্ডেও তার নাম বলেনি। সন্ধিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার করতে হলে ১৬৪, ১৬১ এ নাম থাকতে হবে। সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যও না। আর তিনি যদি অন্যায় করে থাকেন, তা তদন্তে আসবে।”
এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন সুমাইয়া জাফরিন।
তিনি বলেন, “কে বি কনভেনশন হলে এএসপি পরিচয়ে অন্য কেউ ঢুকেছে। কিন্তু আমার নামে দোষ চাপানো হচ্ছে। কে বি কনভেনশন হলে আগে থেকে সব কিছু এরেঞ্জ করা ছিল। আমি আমার স্বামীর সাথে ওখানে গিয়েছিলাম।
“ওখানে কী ধরনের কাজ হচ্ছি তা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। কিছু জানার থাকলে আমাকে জিজ্ঞাস করতে পারেন। আমাকে রিমান্ড দিয়েন না স্যার (বিচারক)। আমি কোনো অন্যায় করিনি।”
পরে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
ভাটারা থানার এসআই জ্যোতির্ময় মণ্ডল গত ১৩ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা দায়ের করেন। এতে সুমাইয়াসহ মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরাসংলগ্ন কে বি কনভেনশন সেন্টারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ‘গোপন বৈঠকের’ আয়োজন করে। দিনভর বৈঠকে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা মিলে অংশ নেন তিন থেকে চারশ জন । সেখানে তারা ‘সরকারবিরোধী স্লোগান’ দেন।
এজাহারে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলে সারা দেশ থেকে ঢাকায় লোক জড়ো করা, শাহবাগ মোড় দখল করে ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করা, মানুষের মধ্যে ‘আতঙ্ক সৃষ্টি করে’ শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিশ্চিত করার মত পরিকল্পনা করা হয় সেখানে।