Published : 14 Jan 2026, 08:33 PM
সামরিক কেনাকাটায় অনেক দেশের শরণ নিলেও অন্য কারও সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি করতে চাইবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
বাংলাদেশে সামরিক ড্রোন নির্মাণ কারখানা স্থাপনে চীন সরকারের সঙ্গে ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি প্রসঙ্গে বুধবার এক প্রশ্নে এই মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে গাজায় সৈন্য পাঠানোর ‘সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি’ বলে বিফ্রিংয়ে তুলে ধরেন তিনি।
গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের যে আলোচনা হচ্ছে তাতে শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখেয়েছে। এ বিষয়ক প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন এখনও সিদ্ধান্ত না হওয়ার কথা বলেছেন।
চীনের সঙ্গে চুক্তির প্রভাব অন্যত্র পড়বে?
আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি সইয়ের উদ্যোগের বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।
ওই চুক্তির প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান–চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের সরবরাহ করা প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিফ্রিংয়ে উপদেষ্টার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়- চীনের সঙ্গে সামরিক কারখানা নির্মাণের চুক্তি করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে কি না?
জবাবে তিনি বলেন, “আমি এটার একটা জেনেরিক রিপ্লাই দিই। সেটা হচ্ছে যে, আসলে আমরা আমাদের সামরিক বাহিনীসমূহের সক্ষমতাতো আমাদের বাড়াতে হবে। কারণ বিমান বাহিনীর কথাই ধরুন, আমাদের এয়ারক্রাফট কিন্তু সবই অত্যন্ত পুরনো। অনেকগুলো সার্ভিসের অবস্থায়ও নেই। কাজেই আমাদের একটা মিনিমাম কিছু ক্রয় করতে হবে।
“কোথা থেকে করা হবে, কোন দেশ থেকে কতটা কী আনা হবে, এগুলো নিয়ে আসলে অনেক আলাপ-আলোচনা হয় এবং আমরা অবশ্যই এমন কিছু করব না, যাতে করে কোনো একটি পক্ষের সাথে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। আমরা এটা ভারসাম্য বজায় রেখেই করব।”
গাজায় সৈন্য পাঠানো হবে?
গাজার নিরাপত্তায় প্রস্তাবিত আইএসএফে বাংলাদেশের সৈন্য পাঠানো বিষয়ক প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, “গাজায় যে আমরা ফোর্স পাঠাব, এ সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।”
নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “নীতিগত সিদ্ধান্ত মানে, এটা নিয়ে একেবারেই আলাপ-আলোচনা চলছে এখন। কারণ এখনও কোনো কিছুই ঠিক হয়নি যে কারা থাকবে, কারা থাকবে না। তবে মূল কথা হলো যে, যে তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই কিন্তু আমরা এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে যাব না।”
তিনি বলেন, “আমরা ওখানে লড়াই করতে যাব না। দুই, ওখানে এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকবে, যাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ করা বা কথাবার্তা বলাই সম্ভব না, সেক্ষেত্রে আমরা যাব না। কাজেই, আমাদের শর্তগুলো এগুলো মোটামুটি পরিষ্কার কিন্তু। এরপরে আমরা চিন্তাভাবনা করব। কিন্তু আসলে কোনো সিদ্ধান্ততো এখনও হয়নি।”
গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আইএসএফে যোগ দেওয়ার আগ্রহ তুলে ধরেন।
সরকারের শেষ অবস্থায় এটা নিয়ে আলোচনা এগোনোর যৌক্তিকতা নিয়ে এক প্রশ্নে বুধবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দেখুন বিষয়টা হল যে, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে আসছে। সরকার কিন্তু থাকতেছে। মানে কিছু ব্যক্তি চলে যাবে, আরও কিছু ব্যক্তি এসে স্থান নেবেন।
“এবং দেশের এনগেজমেন্ট, দেশের স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করব না বা করছি না, যেটা এই সরকার সরে গেলেই একেবারে পরবর্তী সরকার এসে উল্টেপাল্টে দিতে হবে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর ‘নির্ঝঞ্চাট’ হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি যে, আমরা যে কাজগুলো করছি, সেটা আমরা গুছিয়ে রাখছি যতটুকু সম্ভব, অবশ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ডেপ্লয়মেন্টের প্রশ্ন যদি আসে, সেটা পরবর্তী সরকারই নেবে।
“আমরা মনে করি না যে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ের সমাধান হয়ে যাবে। কারণ এটা শুধু আমাদের বিষয়তো না, সমস্ত বিশ্বের একটা বড় সংখ্যক দেশের অংশগ্রহণ আছে এখানে।”
‘পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে’
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের অবস্থা থেকে উন্নত করে স্বাভাবিক অবস্থায় নেওয়ার চেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ এবং তারপর সৌদি আরবে ‘একান্ত বৈঠক’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “এর আগেও কথাবার্তা হয়েছে। এত ‘আঁটি ভেঙ্গে শাঁস না খাওয়া’ই ভালো না!
“কারণ এটাতে দেখুন কী দাঁড়ায়? পাকিস্তানের সাথে আমাদের সম্পর্কতো আমরা উন্নত করার চেষ্টা করছি। উন্নত করার চেষ্টা করছি বলতে আমি বোঝাই, স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে গত এক বছরে। আরও কিছু কিছু কাজ থাকতে পারে। আবার সেগুলো যখন যেটুকু অগ্রগতি হবে, আপনারা জানতে পারবেন।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ কোনো পরিস্থিতি যাতে না ঘটে, সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘ভিসা অন-অ্যারাইভাল’ বন্ধ রাখার কথাও বলেছেন তিনি।
১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ রাখা বিষয়ক প্রশ্নে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে, অনেকেই যারা কাম্য না ঠিক, তারা এসে হাজির হয়ে যেতে পারে। এজন্য আমরাতো ভিসা বন্ধ করছি না। ভিসা নিয়ে আসুক, যে কেউ আসতে চান।
“যাদের পারপাস ঠিক থাকবে, তাদেরকে আমরা আসতে দেব। কিন্তু হুট করে কেউ হাজির হয়ে না যায় এজন্য, এটা করা হয়েছে বলে আমার অনুমান।”
বাহরাইনের বাসায় পোস্টাল ব্যালটের সেই ঘটনা তদন্ত হচ্ছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা