Published : 17 Dec 2025, 08:54 PM
যারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে অস্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ’ হিসাবে দেখাতে চায়, তাদের সামরিক ইতিহাস ও বিজ্ঞান বিষয়ে ‘কোনো জ্ঞান নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
বিজয় দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অন্যদের বার্তায় বাংলাদেশের নামোল্লেখ না থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নে বুধবার এ মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতীয়দের লেখা ইতিহাসেও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা লেখা থাকার কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, “তাদের বিশেষজ্ঞ যারা, তারাই বলতেছে যে (মুক্তিযোদ্ধারা) যেভাবে নমনীয় করে রেখেছিল পাকিস্তান আর্মি রেজিস্টেন্সকে, সেটা না করলে ভারতের এই বিজয় অর্জনে অনেক সময় লাগত, অনেক বেশি ক্ষয় হত, অনেক মানুষ নিহত হত।
“কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা যেহেতু পূর্ববর্তী, আপনি নয় মাস না ধরুন, ছয় মাস ধরুন, তখন তারা পুরোপুরি সক্রিয় হয়েছে। প্রথমে তো একটা রেজিস্টেন্স গেছে, কিন্তু তারপরে তো জুনের দিক থেকে তো পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু করেছে মুক্তিযোদ্ধারা।”
তিনি বলেন, “এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানটাকে যারা অস্বীকার করেন, মিলিটারি হিস্ট্রি বা মিলিটারি সায়েন্স সম্বন্ধে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা এটাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করবেন, কিন্তু অস্বীকার করার কোনো অর্থ হয় না। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা ছাড়া তারা এই বিজয় অর্জন করতে পারতেন না।”
মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আলাদা আলাদা বার্তায় বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
শ্রদ্ধার সঙ্গে তারা স্মরণ করেছেন ৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করা ভারতীয় জওয়ানদের। কিন্তু তারা তাদের বক্তব্যে ‘বাংলাদেশ’ এর নাম একবারও নেননি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া তার পোস্টে বিজয় দিবসকে ‘ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মোদী সেখানে লিখেছেন, “বিজয় দিবসে আমরা সেই সাহসী সেনাদের স্মরণ করছি, যাদের আত্মত্যাগ ১৯৭১ সালে ভারতকে ঐতিহাসিক বিজয় এনে দিয়েছিল।
“তাদের দৃঢ় সংকল্প এবং নিঃস্বার্থ সেবা আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের ইতিহাসে গর্বের মুহূর্ত স্থাপন করেছে। এই দিনটি তাদের বীরত্বের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি, তাদের অতুলনীয় চেতনাকে স্মরণ করার দিন। তাদের বীরত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।”
একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া হিন্দি ভাষার পোস্টে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী লেখেন, “বিজয় দিবসে আমি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বীরদের শ্রদ্ধা জানাই, যারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের সীমান্ত রক্ষায় বীরত্ব, নিষ্ঠা ও অটল সংকল্পের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছিলেন।”
“তাদের দুর্জয় সাহস, সংগ্রাম এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ প্রতিটি ভারতীয়র জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
রাহুলের এই বক্তব্যেও যুদ্ধটি কোথায় বা কার সঙ্গে হয়েছিল সেই ইতিহাসের কোনো উল্লেখ নেই।
মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতীয় সেনাদের লড়াইয়ের সেই প্রেক্ষাপট দুই রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যেই অনুপস্থিত।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মোদীর বার্তায় বাংলাদেশের নাম না থাকার প্রসঙ্গ ধরে করা এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এটা অনেকদিন থেকেই, অনেকদিন থেকে। আমি ভারতে পোস্টেড ছিলাম, আপনারা জানেন, দীর্ঘদিন। তারা সবসময় মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ভূমিকাটাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে।
“কলকাতায় যেমন এটাকে অন্যভাবে পালন করে, ওই যে ইস্টার্ন কমান্ড দিবস হিসেবে পালন করে। কারণ তারা মনে করে যে, যুদ্ধ করে তাদের সেনাবাহিনী বিজয় অর্জন করেছে। সত্য, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা বিজয় অর্জন করেছে।”
বিজয় দিবসে প্রতিবারের মত এবারও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পাওয়ার কথা আরেক প্রশ্নে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
পুরোনো খবর: