সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম হত্যায় ১১ বছর পর বিচার শুরু

২০১৩ সালের ২৯ অগাস্ট সকালে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডে নিজের পাঁচতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন ফজলুল করিম।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Feb 2024, 01:18 PM
Updated : 14 Feb 2024, 01:18 PM

রাজধানীর রামপুরায় সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিমকে গুলি করে হত্যার মামলায় ১১ বছর পর ২৫ আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফয়সল আতিক বিন কাদের বুধবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২১ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেন।

বিচারক আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার এ এইচএম শাহাদাৎ আলী।

আসামিরা হলেন- ওয়াসীম আহম্মেদ রতন, শাহরিয়ার আসিফ রাসেল, এনামুল হক পনির, সেলিম ওরফে কালা সেলিম, ইমাম হোসেন শাওন, অর্পন আহাম্মদ জাভেদ, শফিকুল ইসলাম জনি, শাহজালাল, হাবেল, কাজী মাসুদ পারভেজ, আল আমিন, হাসান আবদুল বাকী, আবু বক্কর ছিদ্দিক রুবেল, হেমায়েত হোসেন হিমু, রুহুল আমিন, শফিকুল ইসলাম বাদশা, তৌহিদ কাশেম প্রিন্স, দেলোয়ার হোসেন দিলু, মুন্না, হাজী বাবু, এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন তপু, বিপ্লব হোসেন বাদশা, নাসির শেখ সীমান্ত, মামুন ওরফে পাঠা মামুন এবং সুজন মাস্টার।

এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী এমদাদুল হক লাল অভিযোগ গঠনের বিরোধিতা করে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।

২০১৩ সালের ২৯ অগাস্ট সকালে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডে নিজের পাঁচতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন ফজলুল করিম।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে অবসরের পর পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে থাকছিলেন তিনি।

ঊনিশশ আশির দশকে কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ফজলুল করিম।

ঘটনার বর্ণনায় ওইদিন নিহতের শ্যালক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ফজলুল করিমের স্ত্রী স্বপ্না করিম সকালে গুলশানে মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েই তৃতীয় তলার সিঁড়িতে অস্ত্র হাতে এক যুবককে দেখতে পান।

আতঙ্কিত স্বপ্না ওই যুবকের কাছে জানতে চান, সে কাকে খুঁজছে। তখন সে অস্ত্রের মুখে স্বপ্নাকে আবার বাসায় ঢুকতে বাধ্য করে এবং তার ডাকে নিচ থেকে আরো দুই যুবক তৃতীয় তলায় উঠে আসে।

তারা স্বপ্নাকে একটি ঘরে আটকে রেখে ফজলুল করিমকে গুলি করে পালিয়ে যায় বলে প্রিন্স জানান।

ঘরে ঢুকে খুন সাবেক সিআইডি কর্মকর্তাকে

ঘটনার পরদিন নিহতের জামাতা ব্যারিস্টার চৌধুরী মকিম উদ্দিন খান জাহান আলী রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৭ সালে ৭ জুলাই ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিএমপির খিলগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক শেখ মাহবুবুর রহমান।

বাদীপক্ষ অভিযোপত্রের ওপর নারাজি দিলে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এরপর ২০১৮ সালের ২০ মে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের সহকারী পুলিশ সুপার রতন কৃষ্ণ নাথ।