Published : 28 Dec 2025, 04:41 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত কাজ ‘শেষ পর্যায়ে’ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসছে বছরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এই ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কারা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটনে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তাকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং উদ্ধারকৃত আলামত পর্যালোচনা করে সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
“আগামী ১০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ আগামী বছর ৭ জানুয়ারি এই মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।"
সবাইকে এ বিষয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "আমরা অতি দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এবং এর পিছনে যারা জড়িত রয়েছে তাদের নাম ঠিকানা পূর্ণাঙ্গ তালিকা সবার সামনে উন্মোচন করব।"
ইতিমধ্যে এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, "এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুততার সাথে ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে ফ্যাসিস্ট দোসর, দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীরা অনবরত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সে জন্য অনুরোধ করবো আমরা এমন কেন কাজ না করি যা আমাদের শত্রু পক্ষকে শক্তিশালী করবে এবং হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।"
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, "বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচার সম্পম্ন করা হবে ইনশাআল্লাহ।"
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন,"বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে ওৎপেতে থাকা ফ্যাসিস্ট দোসর, সন্ত্রাসী এবং দুষ্কৃতকারীদের বিষয়েও দলগুলোকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।"
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী ভালোভাবে না জেনে, ফ্যাসিস্টদের দোসর, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের তাদের দলে স্থান দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘এসব খোলস' পাল্টানোদের থেকে দূরে থাকার আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিন পাতার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এদিকে হাদি হত্যার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান যে দেশে নেই, অবশেষে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ফয়সাল ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন। মেঘালয় পুলিশ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল বলেন, “মামলাটি তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আশা করছি আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে আমরা চার্জশিট প্রদান করতে সক্ষম হব।”
তবে কেন হাদিকে হত্যা করা হল, সেই ‘মোটিভ’ সম্পর্কে এখানো নিশ্চিত নয় পুলিশ।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গেল ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।
চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই ওই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন-মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির এবং মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ‘ভারতে পালাতে’ সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম।
তদন্তে নেমে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।