Published : 07 Jun 2026, 12:51 PM
পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় 'অনিবার্য' ছিল মন্তব্য করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
রামিসা হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে রামিসাদের ভাড়া বাসার সামনে ভিড় করে গণমাধ্যমকর্মীরা। রায় ঘোষণার পরপর সেখানে জড়ো হন স্থানীয়দের অনেকেই। অনেককে মোবাইল ফোনে লাইভ ভিডিওতে রায়ের বিষয়ে শুনতে দেখা যায়।

রামিসার বাসা থেকে কয়েকটি ভবন পরই তার স্কুল পপুলার মডেল হাই স্কুল। ঈদের ছুটির পর রোববার খুলেছে স্কুলটি। রামিসার ক্লাসে সহপাঠীরাও স্কুলে এসেছে। কেবল নেই রামিসা। আট বছর বয়সী এই মেয়েটির ধর্ষণ-হত্যার বিচার দাবিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বাসার সামনে যে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছে তাতে রামিসার ছবির নিচে লেখা রামিসা আক্তার, শ্রেণী দ্বিতীয়, রোল ১।
রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।
রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
রায় ঘোষণার পর ‘পপুলার মডেল হাই স্কুলের’ প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলছেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসে এখানে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে গেছেন। আজ দুই আসামির ফাঁসির রায় হওয়ায় আমরা খুশি। এখন কোন টালবাহানা না করে এই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয় এটাই আমাদের দাবি।"
রামিসদের প্রতিবেশী ও এই হত্যা মামলার সাক্ষী জাকিরুল ইসলাম রাজু বলছেন, "এই নৃশংস হত্যার ঘটনায় আসামিদের ফাঁসি হওয়াটা অনিবার্য ছিল। এলাকার লোকজন যারা সেদিন ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন, ঘটনার নৃশংসতা দেখেছেন তারা সবাই এক বাক্যে খুনিদের ফাঁসিই চেয়েছে।
"এখন এলাকাবাসী আমরা সবাই চাই এই রায় যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হয়।"
ঘটনার পরপর রামিসার বাড়িতে গিয়েছিলেন রাজু। তিনি বলছেন, "সেদিন রামিসার বাবা, আমিসহ কয়েকজন মিলে দরজাটা ভাঙি। কিন্তু ভিতরে গিয়ে যা দেখছি তা মনে করলে এখনো আমার এমন খারাপ লাগে...আমি সেই বর্ণনা কারো কাছে দিতে চাই না।"
স্থানীয় তরুণ মো. শাহরিয়ার রামিসহাদের বাসার উল্টোপাশে বৈঠকখানা নামে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এই তরুণ বলেন, "বাংলাদেশে এরম কত ফাঁসির রায় ঝুইলা রইছে আপনারা গিয়া খোঁজ নেন। হেগোরে ফাঁসিতে না ঝুলান পর্যন্ত আমরা বলব না যে 'আমরা খুশি'। হ্যাগো ফাঁসি হোক তখন আইসেন আপনারে ভালো প্রতিক্রিয়া দিমু।"
রাজধানীর পল্লবীতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকছিলেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। এখানেই পরপর দুই মেয়ের জন্ম। তার ছোট মেয়ে রামিসা পাশের স্কুলে পড়ত। হান্নান মোল্লা ও তার পরিবারটিকে যে কারণে এলাকার অনেকেই চিনতেন, সবার চোখের সামনেই বড় হচ্ছিল শিশুদুটি।

প্রতিবেশী এক নারী বলছেন, "এই রায়টা যেন দ্রুত কার্যকর হয়, যাতে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। যাতে আর কেউ কোন শিশুর সঙ্গে এরকম নৃশংস আচরণের আগে এই ঘটনার কথা মনে করে।"
খাদিজা বেগম নামে একজন পোশাক কর্মী বলেন, "আমরাও তো পোলাপাইন রাইখা কামে যাই। এই ঘটনার পর অনেক ভয় পাইছিলাম। তবে ফাঁসির রায় আমরা সবাই খুশি। হ্যাগো ফাঁসি হইলে আর দশটা খারাপ লোকে ভয় পাইবো। এটা দরকার আছিল।"
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু।
রায়ের পর দুলু বলেন, “এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।