Published : 31 Dec 2014, 12:02 PM
এইচএসসি: ঢাকা বোর্ডের ইংরেজি পরীক্ষা স্থগিত
‘প্রাথমিক সমাপনীর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত’
প্রশ্ন ফাঁস: ‘শিথিল’ নিরাপত্তায় চলছে বিজি প্রেস
প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ‘প্রয়োজনে’ মোবাইল-ফেইসবুক বন্ধ!
ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ‘সাজেশন’ আকারে ছড়িয়ে পড়ে প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি ও এইচএসসির প্রশ্ন।
এসব ‘সাজেশনের’ বেশিরভাগই মূল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।
বছরজুড়েই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে সমালোচনায় পড়ে সরকার। লেখক অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ তুলে ধরে কয়েকটি নিবন্ধ লিখেন, অবস্থান ধর্মঘটও পালন করেন।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও এ নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। বিরোধী রাজনৈতিক জোটের নেতারাও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সরকারকে দায়ী করেন।
প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মেলায় গত ৯ এপ্রিল ঢাকা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
এর আগে ২০১৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সমাপনীর বাংলার ৫৩ শতাংশ এবং ইংরেজির ৮০ শতাংশ প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তেই প্রমাণ মেলে।

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে কেন্দ্র পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী

ফাইল ছবি
ফেইসবুকের বিভিন্ন পেইজে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন সাজেশন আকারে সরবরাহ করা হলেও প্রযুক্তি না থাকায় সরকার ওইসব পেইজও বন্ধ করতে পারেনি। ফের নতুন নতুন ফেইসবুক পেইজে ছড়িয়ে পড়ে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন।
ফেইসবুকে যেসব প্রশ্ন সাজেশন আকারে পাওয়া যাচ্ছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা পরীক্ষার আগেই ছাপিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষার দিন মূল প্রশ্নের সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশ্নের মিল পাওয়া গেলেও সরকার তা আমলে নেয়নি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফেইসবুকে যেসব প্রশ্ন পাওয়া গেছে তা সাজেশন। মূল প্রশ্নের সঙ্গে তার হুবুহু মিল নেই।
“হুবহু মিল না পাওয়া গেলে কি তাকে প্রশ্ন ফাঁস বলা যায়”, উল্টো প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।
আর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ বছরজুড়েই অস্বীকার করে আসা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষার সময় প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ও ফেইসবুক বন্ধ রাখার কথা বলেন।
এছাড়া পরীক্ষার মধ্যে বিরতি না দিয়ে এবং ৩২ সেট প্রশ্ন ছাপিয়ে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
২০১৪ সালের সবশেষ ডিসেম্বরে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সবগুলো পরীক্ষাতেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ছিল।
পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অর্থাভাবে এক সেট প্রশ্ন ছাপিয়ে প্রাথমিক সমাপনীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
বছরজুড়েই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় অভিযোগের তীর বিজি প্রেসের দিকে তোলা হলেও সরকারের একমাত্র মুদ্রালয়কে আধুনিকীকরণে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তবে আগামী বছর থেকে প্রাথমিক সমাপনীর প্রশ্ন বিজি প্রেসে না ছাপিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রই তা ছাপানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর।