Published : 05 Nov 2013, 09:26 PM
মঙ্গলবার গ্রেপ্তার ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এক ছিনতাকারী পুলিশের কাছে এই স্বীকারোক্তিতে এই বিবরণ দিয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার মো. সোহেল (৩৪) খুলশী থানাধীন মতিঝর্ণা মসজিদসংলগ্ন কলোনির মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।
সোমবার গভীর রাত থেকে টানা অভিযানের পরদিন দুপুর ২টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি, উত্তর) মো. শহিদুল্লাহ খুলশী থানায় এক বলেন, “পুলিশ কনস্টেবল খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে সোহেল।”
সোহেল নগরীর টাইগার পাস এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল খুনের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
গত ২৮ অক্টোবর রাতে একই এলাকায় যুবলীগ সদস্য হুমায়ন কবির মুরাদ হত্যা মামলার ঘটনায় করা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি সে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি, উত্তর) মো. শহিদুল্লাহ খুলশী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশ কনস্টেবল খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে সোহেল।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এডিসি শহিদুল্লাহ বলেন, ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে বাটালি পাহাড়ে পিডব্লিউডি কলোনির সামনে শতায়ু অঙ্গনে হাঁটতে যায় জুয়েল (২০) ও ইউসুফ আলী খান (২২)।
“তখন মিন্টু দাশ ও আরসেল নামের দুই ছিনতাইকারী জুয়েল ও ইউসুফের একটি মুঠোফোন এবং এক হাজার সাতশ টাকা ছিনিয়ে নেয়।”
এসময় ডিআইজি বাংলোর পাঁচ কনস্টেবল সাধারণ পোশাকে শতায়ু অঙ্গনের কাছ দিয়ে হেঁটে নাস্তা খেতে টাইগার পাসের দিকে যাচ্ছিলেন। ছিনতাইয়ের শিকার ওই দুই ব্যক্তি পুলিশ সদস্যদের সহায়তা চান।
পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ জানান, পাঁচ পুলিশ কনস্টেবল ধাওয়া দিয়ে মিন্টু ও আরসেলকে পাহাড়ের ঢালুতে গিয়ে ধরে ফেলেন।
“সেখানে পথের পাশেই একটি টিনের ঘরে বসে জুয়া খেলছিল ছিনতাইকারী চক্রের অন্য চার সদস্য লাদেন, বুলেট ওরফে ফারুক, সুমন ও সোহেল। ধরা পড়া দুই ছিনতাইকারীর চিৎকারে ধারালো চাইনিজ কুড়াল, রামদা, ছুরি ও হকিস্টিক নিয়ে বেরিয়ে আসে তারা।”
গ্রেপ্তার সোহেলের বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা দুই ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরে বলে- ‘আমরা পুলিশ। এদের গার্ড রুমে (ডিআইজির বাংলোর গার্ডরুমে) নিয়ে চল’।
“এসময় ছিনতাইকারীরা বলে, পুলিশ হও, আর যাই হও। আজ তোদের যেতে দিব না।”
একথা বলার পর ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা।
শহিদুল্লাহ বলেন, এলোপাতাড়ি আঘাতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়। অন্য একজন গার্ড রুমে গিয়ে খবর দিলে তারা এসে আহতদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত হন পুলিশ কন্সটেবল আবদুল কাইয়ুম। আহত হন অন্য তিন কনস্টেবল।
পুলিশের পথপ্রদর্শক গ্রেপ্তার সোহেল:

এডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, এরপর সোহেল বাসায় গিয়ে গোসল করে। তার পরণে থাকা রক্তমাখা জামাটি ধুয়ে দেয় তার মা।
“তারপর সে ঘটনাস্থলে আসে। সেখানে পাহাড়ের রাস্তা ও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পুলিশের দলকে সহায়তা করে সোহেল।”
ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে এডিসি বলেন, যাতে উপস্থিত কেউ জড়িতদের নাম বলতে না পারে এবং আামদের ভুল পথে চালিত করতে সে ঘটনাস্থলে হাজির হয়।
“শুরুতে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এমন কয়েক জনের নাম ও ঘটনার ভিন্ন বিবরণ আমাদের দেয়।”
একই স্থানে গত ২২ অক্টোবর ডিআইজির গাড়ি চালকের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় এই চক্রটি। ওই মুঠোফোন বিক্রি বাবদ ভাগে একশ টাকা পাওয়ার কথাও পুলিশকে জানিয়েছে সোহেল।
চক্রটি ওই এলাকায় ছিনতাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশেও অংশ নেয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।