Published : 27 Mar 2013, 11:36 AM
সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিরোধী দল জোরালো আন্দোলনের হুমকি দেয়ায় এই উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
পরীক্ষার মধ্যে হরতালের মতো কর্মসূচি বাদ দেয়ার আহ্বানে সাড়া না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রীও।
পরীক্ষা চলাকালে হরতাল ডাকা হলে বিকল্প ব্যবস্থায় পরীক্ষা নিতে মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষার সময় হরতাল ডাকা হয়েছিল।
এতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে দাখিল ভোকেশনাল ও এসএসসি ভোকেশনালের ৩৭টি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যায়।
পরীক্ষা পেছানোর ফলে প্রস্তুতি নিতে সমস্যার কথা বলেছিলেন পরীক্ষার্থীরা।
এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে ২৭ ও ২৮ মার্চ দেশজুড়ে হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
আগামী ১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সূচি অনুযায়ী, ৩০ এপ্রিল তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে আগামী ২-৫ মে।
এই সময় হরতালসহ পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা হয় এমন কর্মসূচি না দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষার্থী সাবির নুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পরীক্ষার সময়সূচিতে হরতাল না দেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করবেন তারা।
বিরোধী দলের জোরালো আন্দোলনের হুমকিতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশঙ্কা, এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যেও হরতাল আসবে।
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ভালোমতো পরীক্ষা দিতে চাই। পরীক্ষার সময় যেন কেউ হরতাল না দেয়।
“আমরা হরতাল চাই না। কিন্তু হরতাল হয় কিনা সেই চিন্তায় আছি।”
এই শিক্ষার্থীর মতো নিজেও উৎকণ্ঠিত জানিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা (রাজনৈতিক দল) যেন পরীক্ষা দেখে কর্মসূচি দেয়, আমি তাদের এই অনুরোধ করছি।
“পরীক্ষার সময় রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল দিলে আমাদের অন্য কোনো উপায় থাকে না। হরতালে পরীক্ষা পিছিয়ে যায়।”
পাবলিক পরীক্ষার সময়ও হরতাল ডাকার নজির দেখে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানান ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম।
“এইচএসসি পরীক্ষার সময় যদি হরতাল আসে, তাহলে আমাদের বিকল্প মানসিক প্রস্তুতি আছে। শুক্র-শনিবারসহ বন্ধের দিনগুলোতে পরীক্ষা নেয়া হবে।”
হরতালের কারণে এসএসসির ক্ষেত্রেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বিরোধী জোটের ধারাবাহিক হরতালে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমি মনে করি সব পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও উৎকণ্ঠায় আছেন।
“ছাত্রছাত্রীরা আমাদের সন্তানতুল্য। এই ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তারা একের পর এক হরতাল দিচ্ছে। হরতালে পরীক্ষা পেছানো মানে সব কিছুই পিছিয়ে যাওয়া।”
হরতালে পাবলিক পরীক্ষা পেছানো হলে শিক্ষার্থীরা মানসিক সমস্যায় পড়েন বলেও মনে করেন এই অধ্যাপক।
এইচএসসি পরীক্ষার সময় যদি হরতাল আসে, কী করবেন- এ প্রশ্নের জবাবে ফাহিমা খাতুন বলেন, “পরীক্ষার সময় যদি হরতাল আসেই তবে সবগুলো দিনকেই আমরা কাজে লাগাতে চেষ্টা করব।
“আমাদের সে প্রস্তুতি থাকবে। আমরা সময় মতোই পরীক্ষা শেষ করব।”
নিজের মেয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা দেবে জানিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ বলেন, “পরীক্ষার জন্য মেয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে পরীক্ষার সময় হরতাল হয় কি না, তা নিয়ে সবাই চিন্তায় আছি।”
এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যে হরতাল না দিতে গত শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে করেন ঢাকা কলেজ, নটরডেম কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী।
বিরোধী দলের ধারাবাহিক হরতালের কর্মসূচিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি নিজেও বিপদের মধ্যে আছি।”
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে তিনি বলেন, “এরা তো কোনো দল করে না। তাহলে তাদের কেন ভোগান্তিতে পড়তে হবে?”
পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বলেন মন্ত্রী।
হরতালের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী।
ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হরতাল না দেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হবে।
এতে নটরডেম কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ভিকারুন নেসা নুন কলেজ, ঢাকা কলেজসহ ঢাকা বিভাগের পরীক্ষার্থী প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।