চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৬
সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পিবিআইয়ের অরগানাইজড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার জাহান জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. ফিরোজ ওরফে শাহরুখ ইসলাম (২৯), আব্দুল কুদ্দুস (৩৪), মাঈনুল ইসলাম (৩৪), বিল্লাল হোসেন (৪১), তৌকির আহমেদ (২৬) ও মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী (৩১)।
সারোয়ার জাহান বলেন, এই চক্রটি এক চাকরিপ্রত্যাশী যুবকের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে বলে, তাকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্রের জেলা প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে নিয়োগের জন্য একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের নম্বর দিয়ে তাতে ১৯৪০ টাকা পাঠাতে বলা হয় ওই চাকরিপ্রত্যাশীকে। প্রথম মাসের বেতনের সঙ্গে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়।
টাকা পাঠানোর পর ওই চক্রটি একটি রশিদ এবং নিয়োগের নামে একটি ফরম ই-মেইল করে। ভুক্তভোগী ওই যুবক তাদের কথামত ফরম পূরণ করে ই-মেইলে পাঠায়।
৩০ জুন ডিজিটাল আইডি কার্ড এবং নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও চক্রটি তার বদলে ‘বিনামূল্যে’ ল্যাপটপ এবং মেডিকেল ইকুইপম্যান্ট দেওয়ার কথা বলে ‘ভ্যাট বাবদ’ আরও ৪০৮০ টাকা চায়।
তখন ওই যুবক বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারকের পাল্লায় পড়েছেন। তিনি ফোন করলে ওই চক্র অকথ্য ভাষায় তাকে গালাগাল করে।
সারোয়ার জাহান বলেন, “এই চক্রটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমিউনিটি কেন্দ্র, সুখী পরিবার, মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র, অ্যাপোলো কনজিউমার প্রোডাক্টসহ বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানে লোভনীয় বেতনে চাকুরির ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আসছিল এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।”
তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার ছয়জনকেই রোববার ঢাকার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর উপ-পরিদর্শক সুহৃদ দে।
এদের মধ্যে মাঈনুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম।
কুদ্দুস, বিল্লাল হোসেন, তৌকির আহমেদ ও কফিল উদ্দিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ফিরোজ ওরফে শাহরুখ ইসলামকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন হাকিম আতিকুল।
