নরওয়েকে আবার হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে পর্তুগাল
শুরুতে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে আশা জাগালেও, টানা তৃতীয় হার এড়াতে পারল না আর্লিং হলান্ড ও তার দল।
ইতিবাচক শুরু করেও আসরে প্রথমবারের মতো পিছিয়ে পড়ল পর্তুগাল। তবে তাদের দুই মিনিটের বেশি আটকে রাখতে পারল না নরওয়ে। আক্রমণাত্মক ফুটবলে আধিপত্য করেই টানা চতুর্থ জয় তুলে নিল জর্জে জেসুসের দল।
পোর্তোয় রোববার ২-১ গোলে জিতে উয়েফা নেশন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করল শিরোপাধারীরা।
ক্রিস্তোফের আয়েরের গোলে পিছিয়ে পড়ার পরপরই সমতা টানেন জুয়াও কান্সেলো। আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেন গসালো রামোস।
বল দখল ও আক্রমণ, সব ক্ষেত্রেই ম্যাচে আধিপত্য করে জেসুসের দল। ৫৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২০ শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। আর গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালিস্ট নরওয়ের ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
চার ম্যাচের সবগুলোয় জিতে, ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুই রাউন্ড বাকি থাকতেই শেষ আটে খেলা নিশ্চিত করল পর্তুগাল।
একই সময় শুরু আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়ে, ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের চার নম্বর গ্রুপে দুইয়ে আছে ডেনমার্ক।
জয়ে আসর শুরুর পর টানা তিন ম্যাচ হারল নরওয়ে। তাদের সমান ওয়েলসেরও ৩ পয়েন্ট।
আগের ম্যাচে শুরুতে দলকে এগিয়ে নেওয়া জুয়াও কান্সেলো এখানে ২২তম মিনিটে গোল পেতে পারতেন। ডি-বক্সের বেশ বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন তিনি, হাত ছুঁইয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল বাইরে পাঠান গোলরক্ষক।
৩১তম মিনিটে আরেকটি দূরপাল্লার শটে ভীতি ছড়ান ব্রুনো ফের্নান্দস। তার প্রচেষ্টাও ঝাঁপিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক এগিল সালভিক।
এর পাঁচ মিনিট পরেই চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। মার্টিন ওদেগোরের ফ্রি কিকে বল ডি-বক্সের ডানদিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েই জোরাল শট নেন ডিফেন্ডার ক্রিস্তোফের আয়ের, বল হাওয়ায় সামান্য বাঁক নিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেয়।
এবারের নেশন্স লিগে এই প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়ল পর্তুগাল। দুই মিনিটের মধ্যেই অবশ্য আরেকটি দর্শনীয় গোলে সমতা টানেন কান্সেলো। নুনো মেন্দসের বাড়ানো বল ডি-বক্সের বাইরে পেয়েই বুলেট গতির শটে জালে পাঠান বার্সেলোনা ডিফেন্ডার।
বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবলে চাপ ধরে রাখে পর্তুগাল। প্রথম ১০ মিনিটে একটি সুযোগও আসে, কিন্তু এই দফায় গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারেননি কান্সেলো। ৭৩তম মিনিটে বড় বাঁচা বেঁচে যায় নরওয়ে, ছয় গজ বক্সের মুখে ফাঁকায় বল পেয়ে উড়িয়ে মারেন হুবেন নেভ্স।
অনেক প্রচেষ্টা বিফলে যাওয়ার পর, ৭৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। হাওয়ায় ভাসিয়ে দারুণ এক থ্রু বল বাড়ান ভিতিনিয়া, দুইজনের মধ্যে দিয়ে ছয় গজ বক্সে ছুটে গিয়ে বাঁ দিকে পাস দেন ফেলিক্স, আর ওখানে আলতো এক টোকায় বাকি কাজ সারেন রামোস।
রোনালদোর অনুপস্থিতিতে টানা তৃতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে তিনটিতেই জালের দেখা পেলেন এই স্ট্রাইকার।
নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে অহেতুক রেফারির সিদ্ধান্তে আপত্তি করে বহিস্কার হন ফ্রান্সিস্কু কন্সেইসাও। প্রথমে তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি, তবে ওই সিদ্ধান্তের একরকম অবজ্ঞা করে বুড়ো আঙুল দেখান পর্তুগিজ উইঙ্গার। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে বের করে দেন রেফারি।
এই ঘটনার পরের মিনিট দুয়েক মাঠে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি অবশ্য দ্রুতই শান্ত হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ শিবিরে এক জন কম থাকলেও ঘুরে দাঁড়ানোর মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি নরওয়ে।
আরও পড়ুন:
